শেখ হাসিনা সরকারের পতন হতেই অনেকে বলেছিলেন, হাসিনা নাকি বছরের পর বছর ধরে ভারতের গোলামী করে গিয়েছেন। কিন্তু এখন উল্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কি কি করে গিয়েছে দেড় বছর ধরে, সেটা ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়ছে। যেটার জন্য খেসারত দিতে হচ্ছে, জনগণকে এবং নির্বাচিত সরকারকে। আসিফ নজরুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বলেছিলেন, গোলামীর দিন শেষ। অর্থাৎ ভারতের গোলামী আর করবে না। শেখ হাসিনা নাকি ভারতের গোলামী করে গিয়েছেন। দেশ বিক্রির একাধিক চুক্তি করে গিয়েছে। কিন্তু সেরকম কোনও চুক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কখনও বার করে দেখাতে পারেনি জনগণকে। উল্টে ভারত বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনে ভারতের সহযোগিতা নিয়েছে। অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন থেকে ১৮ মাস যা যা করেছে, সবটাই মেটিকুকাস ডিজাইন। এখন সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এখন দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতা ছাড়ার তিনদিন আগে মুহাম্মদ ইউনূস আমেরিকার সঙ্গে নন ডিসক্লোজার চুক্তি করে গিয়েছেন। অনেকে বলেন, সেটা দেশ বিক্রির চুক্তি। সেই চুক্তির ফলে এখন বাংলাদেশ সরকার, আমেরিকার দ্বারস্থ হচ্ছে তেল সংকটের সময়ে। আমেরিকার কাছে অনুনয় বিনয় করে অনুমতি চাইতে হচ্ছে, যেন তারা রাশিয়ার থেকে তেল নিতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি দেশ কি সিদ্ধান্ত নেবে, কার থেকে সহযোগিতা চাইবে, সেটা ঠিক করে দেবে আমেরিকা? এমন চুক্তি কেন করলেন ইউনূস?
ভারতের গোলামী করব না বলে এত প্রতিবাদ, আন্দোলন। অথচ আমেরিকার গোলামী করতে একটুও দ্বিধা বোধ করেননি মুহাম্মদ ইউনূস। তার বড় প্রমাণ এই তেল সংকটের সময়ে। অনেকেই বলে থাকেন, মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হয়ে ক্ষমতার মসনদে বসেছিলেন, মূলত আমেরিকার ডিপ স্টেটের হয়ে কাজ করতে। সেটা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন বিদেশী নাগরিককে বাংলাদেশের পদে বসিয়ে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ইউনূস ঘটা করে ঘোষণা করেছিলেন, আমরা কারও কাছে দ্বারস্থ হবো না। সবাই আমাদের কাছে ছুটে আসবে। কিন্তু বাংলাদেশেরই গণমাধ্যম খবর করছে, রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চাইল বাংলাদেশ। বাধ্য হয়েছে অনুমতি চাইতে। এটার বীজ বপন করে গিয়েছেন ইউনূস। ক্ষমতা ছাড়ার তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন চুক্তি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চুক্তি কতটা ভয়ঙ্কর, সেটা যত দিন এগোবে, ততই পরিষ্কার হবে। আমেরিকার অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ এক পা ফেলতে পারবে না। ইরান ইজরায়েলের যুদ্ধে প্রবল তেলের সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ অত্যন্ত ভয়ঙ্কর সংকটের মধ্যে রয়েছে। এদিকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত ও জাতীয় অর্থনীতিকে সমর্থন দিতে বাংলাদেশকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। যেখানে জ্বালানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহ আরো নানা বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর আমির খসরু বলেন, ভারতকে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার জন্য অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ও এই সুযোগ পাওয়া উচিত। ইতিমধ্যেই তাদের ভাষ্য ওয়াশিংটনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ তুলনা টেনে তাদের অনুরোধ আমেরিকার কাছে পাঠিয়েছে। এদিকে পল কাপুর কিছুদিন আগে বাংলাদেশ সফর করে গিয়েছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার নন ডিসক্লোজার চুক্তির ভিত্তিতে বিএনপি সরকারকে কিছু চাপ দিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র মারফত খবর। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূস এই কটা মাসে শুধু নিজের আখের গুছিয়ে গিয়েছেন। নিজের কার্যসিদ্ধি করে গিয়েছেন। কিন্তু এই বিপদের সময়ে ভারত তাদের সাহায্য করেছে। মাসে ১৫ হাজার টন ডিজেল ভারত বাংলাদেশকে দেবে বলে একটি আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশ বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এখন দেখার, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির যে জটিলতা, তা আদেও কাটিয়ে উঠতে পারে কিনা পদ্মাপাড়!












Discussion about this post