মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে ভারত, বাংলাদেশের মতো দেশগুলির উপর। ইতোমধ্যেই জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করেছে ভারত। আগামী চার মাসে আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশকে সরবরাহ করার কথা। যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। অর্থাৎ দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ভারত বিরোধিতা থেকে সরে এসে তারেক রহমান সরকার একটি ভালো সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে ভারতের সঙ্গে। যেটা হচ্ছে, ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপ লাইনের মাধ্যমে। কী এই মৈত্রী পাইপ লাইন? সেটা নিয়ে যেমন আমরা আলোচনা করব, পাশাপাশি আমরা আলোচনা করব, তারেক রহমান প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে একটি ব্যালেন্স করার চেষ্টা করছে। যেটার বিষয়ে একেবারেই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তবর্তীকালীন সরকার। যা মূলে ছিলেন নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু সেই পথে হাঁটেননি বিএনপির চেয়ারম্যান তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রথমে দেখা যাক, ভারত বাংলাদেশের মৈত্রী পাইপ লাইনের দিকে। যার শিলান্যাস হয়েছিল, ২০১৮ সালে। যেটা কার্যকর হয়েছে, ২০২৩ সালে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় এটি করা হয়। আসামের নিউমুলীগড় থেকে বাংলাদেশে এই ডিজেল সরবরাহ করা হয়। প্রথমে শিলিগুড়িতে আসে। তারপর বাংলাদেশের দিনাজপুরে এই ডিজেল সরবরাহ করা হয়। দুই দেশের মধ্যে এই প্রকল্পের জেরে বহু মানুষ, বড় বড় ব্যবসায়ীর উপকার হয়েছে। এই জন্যে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ হয়, যার ৭৫ শতাংশ ভারত সরকার বহন করে। যখন এই পাইপ লাইন করা হয়, তখন এটা নিয়ে নানা সমালোচনা তৈরি হয়। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, কতটা কার্যকর এই পাইপ লাইন। অনেকে বলছেন, সাময়িকভাবে ভারতের সাহায্যে, বাংলাদেশের সমস্যা মিটলেও ভারতের সমস্যা রয়েছে। কারণ ভারতের বেশিরভাগ জ্বালানি ইরান থেকে আসে। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ভারত। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মৈত্রী পাইপ লাইন দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ লক্ষ ১০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ মাস ধরে যেভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের সঙ্গে বিরোধিতা করেছে, তাতে তারা এই পাইপ লাইন দিয়ে ডিজেল সরবরাহ করতে অনাগ্রহ ছিল। অথচ এই পাইপলাইনে ভারত সরকার বিপুল পরিমাণে খরচ করেছে। খরচ করেছে বাংলাদেশও। কিন্তু কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক কারণে এই পাইপ লাইনের কার্যকারিতা বন্ধ করা হয়েছিল। সেটা অবশ্যই বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে। কিন্তু এর প্রভাব কিছুদিন হলেও নির্বাচিত সরকারকে খেসারত দিতে হয়েছে। এমনকি ইউনূসের আমলেও এই পাইপ লাইন নিয়ে নানারকম আলোচনা তৈরি হয়। শেখ হাসিনা ভারতের আধিপত্যবাদকে সব সময় প্রাধান্য দিয়ে এসেছে, এমন আলোচনাও চলেছে। কিন্তু শেষমেষ জ্বালানি পরিস্থিতি সংকট হলে কার্যত দেখা গেল, ভারতই তাদের পাশে রয়েছে। এমনকি এই পাইপলাইন এখন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এক্ষেত্রে একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা যেতে পারে। যেমন, ২০১৬ সালের হিসেব দেখলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি যে খরচ হয়, সবমিলিয়ে ৬৩ শতাংশ ডিজেল। সেই সময় মাত্র ১ শতাংশ ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করত। কিন্তু সেই পরিমাণটা আজ ১৫ থেকে ১৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। এবং বাংলাদেশ এই মুহূর্তে যে যে দেশগুলি থেকে ডিজেল আমদানি করে, ভারত তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই আলোচনা চলছে। কারণ তারেক রহমান যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করছে, তখন আওয়ামী লীগের মতো তাঁকে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে, বিএনপি ভারতের আধিপত্যবাদকে আমল দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তব কথা বলছে অন্য। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শত্রুতা রেখে কোনও দেশ এগোতে পারেনি। যেটা বারবার এই ১৮ মাসে প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই ডিজিট্যালই বিরোধীতা করলেও, বাস্তবতা যে অন্য, সেটা বুঝতে দেরি করছে পদ্মাপাড়ের উঠতি নেতারা।












Discussion about this post