যুগটা তথ্যপ্রযুক্তির তো বটেই। আরও সুস্পষ্টভাবে AI যুগের। এটা এমন একটি প্রযুক্তি, যা দিয়ে হেন কিছু নেই যা করা যায় না। ছোটবয়সে বাংলা রচনার অন্যতম বিষয় থাকত বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ? আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সেটা ঘুরিয়ে বলা যেতে পারে AI আশীর্বাদ না অভিশাপ? একদিকে এই প্রযুক্তি মানবজীবনে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে সেটা অভিশাপ। AI দিয়ে অনেকে তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। কেরিয়ারের চূড়া তারা স্পর্শ করেছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ আয় করতে পারে, আবার এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত তৈরি করতে পারে। এই প্রযুক্তি মানুষকে আবার প্রতারিত করেছে।
AI প্রযুক্তি কী? AI পুরো কথা Artificial Inteligence. বাংলা করল দাঁড়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কম্পিউটার যখন আবিষ্কার হয়েছিল, তখন কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছিল এটা বোকা বাক্সের আধুনিক সংস্করণ। এটা শুধু মানুষের নির্দেশ মেনে কাজ করে। কিন্তু এখন এমন এক প্রযুক্তি এসেছে যে প্রযুক্তি মানুষের মতো লিখতে পারে, শিখতে পারে, বলতে পারে, এমনকী ছবিও বানাতে পারে। বলা যেতে পারে মানুষের বিকল্প এখন Artificial Inteligence. সে মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। AI প্রযুক্তি কোনও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে না। বরং, মানুষের দ্রুততম সময়ের মধ্যে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত নির্ভুল। এটা কম্পিউটারকে শেখায়, তাকে নির্দেশ দেয়। আমরা যেমন দেখে, শুনে অভিজ্ঞতা থেকে শিখি, AI প্রযুক্তিকে শেখানো হয় বিপুল পরিমাণ ডেটা দিয়ে। ধরা যাক কেউ একজন ফেসবুক ব্যবহার করছে। সে দেখছে কারও পোস্ট বা কারও ভিডিও। এসবের পিছে কাজ করে AI প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি শিখতে পারে মানুষের কণ্ঠস্বর, মুখের ভাব এমনকী লেখার স্টাইল পর্যন্ত।
বাংলাদেশে কিছুদিন আগে এই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হয়েছিল একটি প্রতারণার ফাঁদ। সেখানে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের তারেক রহমানকে। সেই ভিডিও ভাইরাল। যদিও নিউজ বর্তমান সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। তিনি একটি বিজনেস প্ল্যাটফর্মে দাড়িয়ে দেশবাসীকে সেখানে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ওই বিজনেস প্ল্যাটফর্মের প্রশংসা করছেন। ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়। দেশবাসী কার্যত বিস্মিত। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। দেখা যায়, ওই ভিডিওটি AI প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। কে করেছে, কারা করেছে, তা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। তবে ঘটনা যে রীতিমতো শিহরণ তোলার মতো তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। শুধু তারেক রহমান নন। বলা হচ্ছে, তার সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। মধ্যেপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তার মধ্যে বহু ভিডি এই AI প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। ফলে, কোনটা আসল আর কোনও নকল, তা বোঝা রীতিমতো কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশে একজন ফুটবলারের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছিল বিরাটর একটি প্রতারণার ফাঁদ বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম। তার জন্য তদারকি সরকারের এক প্রাক্তন উদেষ্টার ডিপ ফেক ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হয়।
এই প্রযুক্তির যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালে। এই প্রযুক্তি আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে এক অসাধারণ শক্তির চাবি কাঠি। এখানে সেই বহু চর্চিত প্রশ্নটা ঘুরে আসছে AI প্রযুক্তি আশীর্বাদ না অভিশাপ। বাংলাদেশের ঘটনার নিরিখে বিচার করলে এই প্রযুক্তি অভিশাপ। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কী ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, সে দিকে একবার চোখ রাখা যাক। ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি। ফেসবুকে ভাইরাল হল একটি ভিডিও। সেখানে দেখা গেল ড. মহম্মদ ইউনূসকে। তিনি সেখানে দেশবাসী আহ্বান জানাচ্ছে একটি AI প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করতে। সেটা এতটাই নিখুঁত যে বোঝার উপায় ছিল না যে আসল না নকল। কারণ ভিডিও তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক AI প্রযুক্তির সাহায্যে। তদন্ত করে দেখা যায়, ইউনূসের ভিডিও ২০১৮ সালের একটি পুরনো বক্তৃতা থেকে নেওয়া। AI voice cloning দিয়ে তাঁর বক্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছে। এই প্রতারণার ফাঁদ পাতা হয়েছিল ভিয়েতনাম এবং আমেরিকা থেকে।
ঠিক এক মাস পর আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায় তারেক রহমানকে। তিনি বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি বিনিয়োগ প্রকল্প চালু হয়েছে। সেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারে। মাত্র ১৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে মানুষ লাখপতি হতে পারে। রিউমার স্ক্যানারে ধরা পড়ে এটি ভুয়ো।












Discussion about this post