কপাল ভালো বলতেই হচ্ছে। কারণ, বিউগলে বাজছিল “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।” এটা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। সেটা না বাজালে বোঝার উপায় ছিল না এটা জাতীয় সংসদ না বিক্ষোভ মঞ্চ? আরও মোটা দাগে পাড়ার রক। রাষ্ট্রপতি এসে গিয়েছেন। জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছে। অধিবেশনের মনিটরে প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। জামাত সহ বিরোদীদলের সাংসদরা চেয়ারে বসে আছেন। রাষ্ট্রপতি বডিগার্ড তাদের দাঁড়াতে বলছেন।উঠে দাঁড়াতে বলছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীরও। কে শোনে কার কথা। বিউগলে জাতীয় সংগীত প্রায় অর্ধেক বাজানো হয়ে গিয়েছেন, বিরোধী নেতারা দাড়ালেন বটে। কিন্তু এমনভাবে দাঁড়ালেন যা দেখে মনে যে কারও মনে হবে না দাঁড়ালে নয়। তাই দাঁড়াতে হচ্ছে।
জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি চুপ্পু ভাষণ পাঠ করবেন। শুরু হল স্লোগান। বিরোধীনেতাদের হাতে প্ল্যাকার্ড। কোনও কোনও প্ল্যাকার্ডে লেখা রাষ্ট্রপতি স্বৈরাচারী। কোনও কোনওটায় লেখা রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিবাদের দালাল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, যারা জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় দাঁড়াতে জানে না, তাদের থেকে রাষ্ট্রপতিক সম্মান প্রদর্শন আশা করাটাই অন্যায়। বিতর্কের শেষ এখানেই নয়। রাষ্ট্রপতি ভাষণ পাঠ করছেন। সেই সময় বিরোধীরা দলের নেতারা দিয়ে চলেছেন স্লোগান। এবং গোটাটাই হয়েছে অসংদীয় কায়দায়। প্রয়োগ করা হয় অশালীন ভাষা।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশন শুরু হলে খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তোলা শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করা হল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন এবং বিএনপির এক নেতার নাম। বৃহস্পতিবার অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম আরও কয়েকটি নাম যুক্ত করার অনুরোধ জানান। তার প্রস্তাবে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়াও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম যুক্ত করার কথা বলা হয়। পরে স্পিকার তা অনুমোদন করেন। এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে উঠে বলেন, শোকপ্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো বলার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কথা বলার অনুরোধ করেন। স্পিকার তাকে মাইক দেন। তাহের বলেন, শোকপ্রস্তাব ‘একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে’ এবং ভবিষ্যতে সংসদকে ‘নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত’ করতে আরও সচেতন হওয়া দরকার। এ সময় তিনি আরও কয়েকজনের নাম বলে সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
জামাতের বক্তব্য রাষ্ট্রপতি চুপ্পু অতীতে সংঘঠিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি। অথচ তিনি রাষ্ট্রের অভিভাবক। দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্ট জাতির উদ্দেশ্য দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছিলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। তিনি সেই পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেটা অস্বীকার করেন। এতে তিনি জাতির প্রতি মিথ্যাচার করেছেন। জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে জামায়াতে আমিরের তৃতীয় অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য – এই দুই ভূমিকায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি একাধিক অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে সংস্কার পরিষদের আহ্বান করার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতি তা করেননি।
রাষ্ট্রপতির ভাষণে সব থেকে যেটা দৃষ্টিকটূ তা হল আওয়ামী লীগকে তিনি শূলে চড়িয়েছেন।












Discussion about this post