স্পেনের সিদ্ধান্ত বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশ। সে দেশের সরকার জানিয়েছে, পাঁচ লক্ষ অনিয়মিত অভিবাসীকে তারা বৈধকরণ করবে। কিন্তু তার জন্য তারা কিছু শর্ত আরোপ করেছে। একটি হচ্ছে পাসপোর্ট। দ্বিতীয়টি বাংলাদেশ পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। এই দুটি সরকারের ঘরে জমা করতে হবে। আগামী এপ্রিলের শুরু থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এর জন্য আবেদন করা যাবে। স্পেন সরকারের এই ঘোষণায় সে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিকেরা প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সংগ্রহ শুরু করেছেন। বিশেষ করে পাসপোর্ট এবং আবেদনকারীর বিরুদ্ধে দেশে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকার সনদ বা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিজেদের দেশ থেকে সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন। তবে তাদের আশঙ্কা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট জোগাড় করতে পারবে না। ফলে, বাংলাদেশের ১০ হাজার নাগরিকের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হতে চলেছে।
এই বিষয়ে গত জানুয়ারিতে স্পেন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। বামপন্থী দলগুলির সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। এর আওতায় যে সব অভিবাসন প্রত্যশী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের আগে থেকে স্পেনে বসবাস করছেন এবং একসঙ্গে টানা পাঁচ মাস ধারাবাহিনী অবস্থানের প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তারা দ্রুত বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
অভিযোগ উঠেছে, পাসপোর্ট তৈরি ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না। সুযোগ বুঝে মাঠে নেমে পড়েছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। তাদের দিতে হচ্ছে ২০ থেকে ৫০ ইউরো। এই অর্থের বিনিময়ে তারা বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাপয়েনমেন্ট করিয়ে দিচ্ছেন। একটি গণমাধ্যমের তরফে বাংলাদেশ দূতাবাসকে এই বিষয়ে অবগত করা হলেও তারা কার্যত হাত গুটিয় বসে রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও তারা একথা বলছে, দূতাবাসে যারা আসছেন, তাদর পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকলেও দূতাবাস থেকে তারা পরিষেবা পাচ্ছেন। এই বিষয়ে গণমাধ্যমের তরফে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ স্পেন সরকারের তরফে নাগরিকত্ব প্রদান করার বিষয়ে ঘোষণা দেওয়ার পরে পরে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা নানা ধরনের কনস্যুলার সেবা দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।” তাঁর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেষিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, স্পেন সরকারের ওই ঘোষণার পর থেকে নতুন পাসপোর্টে তৈরির আবেদন প্রক্রিয়া ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজের চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে।
সে দেশে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশের সংগঠন ‘ভালিয়ান্তে বাংলা। ’ সংগঠনের সভাপতি মো. ফজলে এলাহি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দূতাবাসে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য অর্থ দিতে হচ্ছে এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সহজ শর্তে বৈধ হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে এখানকার অনিয়মিত অভিবাসীরা খুবই উপকৃত হবে। বাংলাদেশেও তারা রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন। তারেক রহমান সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সব অভিবাসীদের পাসপোর্টে ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে স্পেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা পাবেন বৈধতা। স্পেন বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আফাজ জনির কথায়, বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ অভিবাসীদের জন্য কঠোর পদক্ষেপ করেছে। সে ক্ষেত্রে স্পেন সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এই সুযোগ এল দীর্ঘ ২৫ বছর পর। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন জানিয়েছেন, “স্পেনের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও পাসপোর্ট যাতে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা করা যায়, সে জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রীকে স্মারক লিপি দেওয়া হয়েছে। আমাদের আশা বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। ”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মের ফলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি সরাসরি উপকৃত হবেন। বৈধ শ্রমচুক্তি করতে পারবেন পর্যটন, কৃষি ও খুচরো ব্যবসা খাতে কাজ করা প্রবাসীরা। পাবেন সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং নির্বিঘ্নে দেশে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ।












Discussion about this post