হাদি মৃত্যুর পরেও বেঁচে রয়েছেন। তবে একটু অন্যরকমভাবে। তাঁর মৃত্যু নিয়ে যেমন কম আলোচনা হয়নি, মৃত্যুর পরেও গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়নি। বলা যেতে পারে জীবিত অবস্থায় তাকে নিয়ে যত না আলোচনা হয়েছে, মৃত্যুর পরে তার থেকে বেশি আলোচনা হয়েছে। এ যেন মনে করায় কাদম্বিনীকে নিয়ে সেই অমোঘ সমাপ্তি মনে করায় – কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই। এখন যে প্রশ্নটা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তা হল হাদি হত্যা আসলে কাদের প্রকল্প? বলা হচ্ছে এটা অভ্যন্তরীণ কনসর্টিয়াম ড্রিভেন অপারেশন যেখানে শুটার, ফ্যাসেলিটেটর, ন্যারেটিভ ম্যানেজার এই তিন স্তরে এরা আলাদা আলাদাভাবে কাজ করেছে। ভারত বা সে দেশের মূল ধারার কোনও রাজনৈতিক দলকে টার্গেট করা বর্তমান প্রবাহের সঙ্গে যাচ্ছে না। ওসমান হাদির মতো একজন লড়াকু সৈনিক, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠকে থামিয়ে দিতেই এই হত্যা। হাদি হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে ভারতে। ভারত সরকার তাদের বাংলাদেশে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এটাই হাদি হত্যাকাণ্ডের টার্নিং পয়েন্ট। পর্দার আড়ালে থাকা স্থপতিদের মুখোশ এবার খুলে পড়তে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সেটাই হবে এই হত্যাকাণ্ডের বড়ো রাজনৈতিক এন্ডগেম।
হাদিকে যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই আক্রমণ ছিল সিম্বলিক বা প্রতীকী। নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করার চেয়ে কার্যকর অস্ত্র খুব কম আছে। হাদিকে টার্গেট করার যুক্তি এখানেই। ইনকিলাব মঞ্চ নিজেকে আলাদা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরেছেন। হাদি নিজেও সেই পরিচয় সামনে রাখেন। ফলে, তাকে আঘাত করলে কোনও দলীয় আক্রমণ বলে সঙ্গে সঙ্গে গোটা রাষ্ট্রযন্ত্র নামবে না। কারণ, হাদি এক বছরের বেশি সময় ধরে জনপরিসরে দৃশ্যমান ছিলেন। কথা বলতেন খুব কঠিন ভাষায়। যার্ অনেক কথা নানা সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই কথার সঙ্গে কিছু মানুষ যেমন একমত হয়েছেন, কিছু মানুষ বিরোধিতা করেছেন। এই শোনা ও এই দৃশ্যমানতা, এই আবেগ তাঁকে হাই ভ্যালু টার্গেট করে তোলে।
একটা বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে হাদি হত্যার পর যারা এই ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছিল, মূল অপরাধীরা ধরা পড়ার পর তারা একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকেও বিদায় নিয়েছেন। হাদিকে নিয়ে তাদের আর কোনও পোস্ট চোখে পড়ছে না। সবার আগে ইউনূসের কথা বলতে হয়। হাদির মৃত্যুর পর তিনি চোখের জল ফেলেছিলেন। অথচ, হাদির দুই হত্যাকারী ধরা পড়ার পর কিন্তু তার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কি হত্যার নেপথ্য কারিগরদের মধ্যে একজন তিনি। হাদি ছিল একটি প্রজেক্ট।
বিষয়টা একটু বোঝার দরকার। কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করতে হয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারির সংবেদনশীল নির্বাচন এই window তে একজন হাই ভিসিবল লিডারকে কেন্দ্র করে ভিক্টিমহুড পলিটিক্সকে সিলমোহর দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাদিকে খুন করা হয়েছে বল মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। সঙ্গে দিল্লি না ঢাকা স্লোগান দিয়ে ভারত-বিরোধী আবেগকে উস্কে দেওয়া আসলে একটি প্লেবুক। লক্ষ্য ছিল তিনটি প্রথমত জনমতের মেরুকরুণ, ইউনূস প্রশাসনকে কোণঠাসা করা এবং নির্বাচনী ক্যালেন্ডারে অস্থিরতা তৈরি করা। হাদি দুই হত্যাকারী ভারতে গ্রেফতারের পর হাদির সমর্থকদের আশ্চর্য রকমভাবে নীরব থাকা সেটাই প্রমাণ করে। না হলে তা তারা স্লোগান দিত ফয়জাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই স্লোগান কিন্তু তাদের দিতে দেখা যায়নি। বিচার দাবির মতো ঝাঁঝালি স্লোগান শোনা যাচ্ছে না। হাদির সহকর্মী হিসেবে পরিচিত মোনামি ম্যাডামের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না। তবে কী তারা কোনও অশনিক সংকেত দেখতে পেয়েছেন।












Discussion about this post