হাসনাত আবদুল্লার এমপি পদ কি বাতিল হয়ে গিয়েছে? বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে কুমিল্লা ৪ আসনের এই প্রার্থী এবং জামায়াতের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর এমপি পদ বাতিল করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর আদেশক্রমে সংসদ সচিবালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সংসদ ভবনে প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পরে পরেই এমপি বাতিলের ঘোষণা করা হয়। এমপি পদ বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে পদের যোগ্যতা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই নেতা বেশ আলোচিত ছিলেন। এমপি পদ বাতিলের পর সংসদ ভবনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। জামায়াত জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, হলফনামায় তথ্যে গলদ, ঋণ খেলাপ, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সমর্থনকারী ভোটারের তথ্যে গরমিলসহ নানা অসংগতির কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। বাতিল হওয়া দলীয় অন্য প্রার্থীদের মধ্যে গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও খেলাফত মজলিসের দুজন করে এবং জাতীয় পার্টি (আনিসুল-রুহুল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাসদ (মার্ক্সবাদী), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের একজন করে প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা স্বতন্ত্র। তাঁদের মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিএনপিদলীয় অন্তত আটজন নেতা রয়েছেন। হাসনাত আবদুল্লার অনুসারীরা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।
যদিও তথ্য বলছে, এটি একটি গুজব। রাষ্ট্রপতি এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের খবরটি সঠিক। তবে হাসনাতের এমপি বাতিল নিয়ে গুজব তৈরি হওয়ার কারণ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভাষণের সময় জামায়াত এবং এনসিপির সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর হাসনাত আবদুল্লা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি মাত্র তিনটি শব্দ ব্যবহার করেন Get out Chuppu’।
এদিকে স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। এখানে ‘Chuppu’ শব্দটি দিয়ে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে বোঝানো হয়েছে। রাজনৈতিক মাঠে তিনি ‘চুপ্পু’ নামেই পরিচিত। তবে এ বিষয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তার এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঘোষণা করেন স্পিকার মেজ (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। ঘোষণা শেষ হতেই বিরোধী দলের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। রাষ্ট্রপতি অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তারা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এমনকী জাতীয় সঙ্গীত যখন বাজানো হচ্ছিল সেই সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের চেয়ারে বসেছিলেন। একসময় দেখা যায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পর দেহরক্ষী তাদের উঠে দাঁড়াতে বলেন। তারপরেও তাদের বসে থাকতে দেখা যায়। রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধীরা ওয়াক আউট করেন।
জামায়াত এবং জুলাই জঙ্গীদের মধ্যে যারা সংসদে প্রবেশ করেছেন, তারা যে সংসদকে তাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলা হচ্ছে জুলাই আন্দোলনের এক্সটেনশন পর্ব শুরু হবে সংসদে। কারণ, জামায়াত আর জুলাই জঙ্গিরা ক্ষমতায় যেতে পারেনি। তাই, তাদের কাছে এখন বিকল্প হল সংসদ।












Discussion about this post