বাংলাদেশে জাতীয় রাজনীতিতে পালাবদলের পর বহু প্রশ্ন ঘোরাঘুরি করতে শুরু করে। আওয়াম লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না? হাসিনা দেশে কবে ফিরছেন? তাকে দেশে ফেরাতে তারেক সরকার কতটা পদক্ষেপ করবে? তাঁর এই পদক্ষেপে বিএনপির বাকি নেতারা সমর্থন দেবেন কি না? সামনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেই নির্বাচনে হাসিনা ও তাঁর দলকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয় কি না, তা নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। প্রতিটি প্রশ্নই কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। নানা মহল থেকে নানা রকম মত এসেছে। কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের ওপর পূর্বতন সরকার যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল, সেই নিষেধাজ্ঞার কোনো বৈধতা নেই। কারণ, তদারকি সরকারই তো অবৈধ। তাই অবৈধ সরকারের যে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞাই অবৈধ। এই সব প্রশ্নকে ছাপিয়ে যায় আরও একটি প্রশ্ন – বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কি তাঁর পদ থেকে যাবেন? না কি তাকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে? তার জায়গায় কাকে রাষ্ট্রপতি করা হবে?
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ-সদস্যদের মতামত লাগবে। ২০০১ সাল পরবর্তী বিএনপি সরকারের সময়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ইমপিচমেন্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। তবে ওই ঘটনা বিএনপি সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর হয়েছিল বলে এখনো অনেকে মনে করেন। ফলে আপাতত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে ইমপিচমেন্ট করতে রাজি নয় বিএনপি। তাঁর কারণও রয়েছে। প্রথমত দলটি এখনই কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে রাজি নয়। দ্বিতীয়ত এ প্রশ্নে জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির হিসাব-নিকাশের বিষয় রয়েছে। তৃতীয়ত সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি রাষ্ট্রপতিকে তাদের দাবি ও চাপের মুখে সরাতে চায়। ফলে বিএনপি এখনই এ প্রশ্নে তাদের দাবি না মেনে কৌশলী অবস্থান গ্রহণের পক্ষে।
এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তোলা যেতে পারে। বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, গত ১৮ মাসে তাঁকে ইউনূস সরকারের তরফে কীভাবে মানসিক চাপে রাখা হয়েছিল। এখন যে তিনি চাপমুক্ত, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্নটা জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ঘোরাঘুরি করছিল, সেটা আবার ফিরে এসেছে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু থাকবেন না যাবেন? এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, বিএনপি চাইলে তিনি থেকে যাবেন। না চাইলে স্বেচ্ছায় চলে যাবেন। বল এখন বিএনপির কোর্টে। ২০১৮ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করতে হয়।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে সেই সময় একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বিএনপি তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থাপ্রস্তাব আনে। বাধ্য হয়ে তাঁকে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বাংলাদেশ সংবিধানের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে কেবল ‘সংবিধান লঙ্ঘন’ এবং ‘গুরুতর অসদাচারণ’-এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত করা সম্ভব। তবে বিএনপি যে এই রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেবে না, তার প্রমাণ ২১ এবং ২৬ মার্চ। প্রথম দিনটি ছিল ঈদ। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে নমাজ পড়েন। আর ২৬ মার্চ তারেক তাঁর মেয়ে জাইমাকে নিয়ে বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। দেখা করেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতিকে তারা সরিয়ে দিচ্ছে না। কিন্তু কেন?
জামায়াত এবং বেশ কয়েকটি বিরোধীদল বলছে, বিএনপি সরকারের মেয়াদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দির চুপ্পুর মেয়াদ সমান্তরাল হওয়ার কারণে বিএনপি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কালক্ষেপণ করছে।












Discussion about this post