২৬ জানুয়ারি। এই দিন দিল্লির রাজপথ, বর্তমান নাম যার কর্তব্যপথ, সেদিকে তাকিয়ে থাকে গোটা দেশ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন ভিন দেশের কোনও রাষ্ট্র্প্রধান। উপস্থিত থাকেন রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, লোকসভার স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত থাকে গোট ক্যাবিনেট। প্রধান বিরোধী দলনেতা সহ বিরোধী দলের সব নেতাদেরও সরকারের তরফে আমন্ত্রণ করা হয়। তারা সেই আমন্ত্রণপত্র সসম্মানে গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর থেকে শুরু হওয়া এই রেওয়াজে এখনও ইতি পড়েনি। এবারেরও ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্য পথ হয়ে উঠেছিল রঙীন। দেখা গিয়েছিল তিন বাহিনীর সদস্যদের কেরামতি। বিধ্বংসী সব অস্ত্রের প্রদর্শনী। আর সবার শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সকলেই এই দিনটির জন্য মুখিয়ে থাকি। সকাল হলেই কমবেশি সকলে টিভির পর্দায়। আর একটি অনুষ্ঠানের নাম বিটিং রিট্রিট। এই অনুষ্ঠানও কম জমকালো নয়। অনুষ্ঠানের মূল ভাব বা থিম হল সেনারা তাদের ব্যারাকে ফিরে যাবে। এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সব সময় রাষ্ট্রপতি। থাকেন উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, লোকসভা স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার সহ গোটা ক্যাবিনেট। থাকেন বিরোধীদলের নেতারাও। শুধু কর্তব্যপথ ওই দিন রঙিন হয় না। কলকাতার রেড রোড, বর্তমানে যার নাম ইন্দিরা গান্ধী সরণি। সেই রাস্তাও রঙিন হয়ে ওঠে ওই দিনে।
এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়ে একবার আলোচনা করা যাক। পদ্মাপারেও কিন্তু স্বাধীনতা দিবস ঘটা করে পালন করা হয়। অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ। দেখা যায় অস্ত্রের প্রদর্শনী। অনুষ্ঠান মোটের ওপর বেশ জমকালো। ভারতে ২৬ জানুয়ারি কর্তব্যপথে যে সব অস্ত্র দেখানো হয়, তার অধিকাংশই কিন্তু ভারতে তৈরি। কিছু অস্ত্র ভিন দেশ থেকে কেনা। পরে সেই ধাঁচেই ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণাগার তৈরি করে নতুন অস্ত্র। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবসের দিন যে সব অস্ত্রের প্রদর্শন করা হয়, সে গুলি কি সেই দেশের নিজস্ব? এককথায় না। প্রায় সবই অন্য দেশ থেকে। কোনও দেশ থেকে কেনা হয়েছে বন্দুক, তো কোনও দেশ থেকে কেনা হয়েছে গুলি, কামান। এক কথায় সামরিক অস্ত্রের জন্য বাংলাদেশ এখনও পররাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও কিন্তু অস্ত্র কেনার ব্যাপারে তারা এখনও পরাধীন রয়ে গিয়েছে। স্বাধীনতার দিবসের দিন বাংলাদেশের সামরিক শক্তির প্রদর্শনী আসলে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। বাংলাদেশ মালিক নয়, একজন ক্রেতা। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ এখনও অস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে এখন স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি।
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের ধুলো থেকে। সেই সময় দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল না। তাই, সে কারণে তখন যারা সরকারে ছিল, তাদের দায়িত্ব ছিল একটি দেশের পুনর্গঠন। দায়িত্ব ছিল সীমান্ত টিকিয়ে রাখা। দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও কোনও রাজনৈতিকদল কিন্তু এই নিয়ে আলোচনা করেনি। নানা ইস্যুতে বাংলাদেশ একাধিকবার উত্তাল হয়েছিল। কিন্তু পররাষ্ট্রের ওপর থেকে অস্ত্র নির্ভরতা হ্রাস করতে দেশটিতে কোনও আন্দোলন হয়নি। প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারপরেও বাংলাদেশকে এখনও অন্য কোনও রাষ্ট্রের থেকে অস্ত্র কিনতে হয়। প্রতিরক্ষা দফতরের কর্মীদেরও বেতন আগের তেকে অনেক বেড়েছে। প্রতিরক্ষাখাতে খরচও বেড়েছে।
বাংলাদেশ আর একটা দিক দিয়ে পিছিয়ে। সেটি হল আধুনিক প্রযুক্তির অভাব। বর্তমানে যুদ্ধ মানে শুধু গোলা বারুদ নয়, যুদ্ধ মানে প্রযুক্তির খেলা। প্রযুক্তির দিক থেকে যে দেশ এগিয়ে সেই দেশের হাতে থাকে রণক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ। এই প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কথা বলা যেতে পারে। অস্বীকার করা যায় না যে সামরিক শক্তি এবং প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে আমেরিকা। কিন্তু তাদের যেভাব ইরান জবাব দিয়ে চলেছে, তা থেকে বিশ্বমঞ্চে এই বার্তাই যায় হাম কিসিসে কম নেহি।











Discussion about this post