বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছে। বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে জামায়াত। আপাত দৃষ্টিতে সব কিছু ঠিকঠাক দেখতে মনে হলেও সব কিছু দৃশ্যত ঠিক নয়। সব কিছু সমান তালে চলছে না। বাংলাদেশ এমনিতে সমস্যায় দীর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। এদিকে আবার জাতীয় রাজনীতিতে জট আর ঘোট কিছুতেই কাটছে না। জট এখন জটায় পরিণত হয়েছে। কবে জট কাটবে সে ব্যাপারে কোনও পক্ষই কিছু বলতে পারছে না। বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন, তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর একটা জট কাটলেও নতুন করে আরও একটি জট তৈরি হয়েছে। সেই জট আবার ত্রিভুজাকৃতির।
হাসনাত আবদুল্লার মন্ত্রীপদ বাতিল হয়েছে বলে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনুসের ইচ্ছা তিনি রাষ্ট্রপতি হবেন। আবার এনসিপিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি বড়ো ধরনের কোনও পরিবর্তন আসতে চলেছে? গুঞ্জন ওঠার প্রথম কারণ, পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস। গত কয়েকদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। তাকে তাঁর পদে রেখে বিএনপি সরকার রেখে দেবে কি না বা তিনি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন কি না, তা নিয়ে নতুন করে গুঞ্জন তৈরি হয়। রাষ্ট্রপতি নিজে জানিয়েছিলেন, বিএনপি চাইলে তিনি তাঁর পদে থেকে যেতে পারেন, আবার তারা না চাইলে তিনি তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। জামায়াত আবার রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের জন্য দাবি তুলতে শুরু করেছে। শাসকদল তাদের দাবিকে যেমন আমল দিতে নারাজ, তারা আবার রাষ্ট্রপতিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিতে নারাজ। এই মুহূর্তে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিলে একটা সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। বিএনপি সবে সবে ক্ষমতায় এসেছে। তারা কোনও অবস্থাতেই সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে চাইবে না। জামায়াত সহ বিরোধীরা সরকারকে সেই দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।
এদিকে, আবার শোনা যাচ্ছে পূর্বতন সরকার প্রধান ইউনূস দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন। এটা তাঁর একার ইচ্ছে নয়, এই ইচ্ছে বিএনপিরও। ইউনূস যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন থেকেই তিনি কিন্তু শাসনক্ষমতার শীর্ষে যাওয়ার জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। সাহাবুদ্দিন যাতে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, তার জন্য তাঁর ওপর নানাভাবে চাপ তৈরি করেছিলেন। যদিও রাষ্ট্রপতি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াননি। পরে তিনি একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, সেই সময় তিনি সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। এখন ক্ষমতায় তারেক। এবার কি তবে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন।
তাঁকে নিয়ে যখন বাংলাদেশে জোর গুঞ্জন, সেই সময় এল আরও একটি খবর। জুলাই যোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লার মন্ত্রীপদ বাতিল হয়ে গিয়েছে। কী এমন হল, যার জন্য হাসনাতের আবদুল্লার সাংসদপদ বাতিল করা হল। হাসনাত আবদুল্লার মতো প্রভাবশালী নেতার এই অবস্থা হল কী করে? সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী তারেক এনসিপি নেতাদের পাসপোর্ট জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে যে সব এনসিপি নেতা ও সমন্বায়ক পর্দার আড়ালে থেকে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছেন, তাদের কড়া নজরদারিতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, তাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ফন্দিফিকির করছেন বলে সরকার খবর পেয়েছে। তাই, দেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে নজরদারি আরও কড়াকড়ি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হাসনাত আবদুল্লা ও এনসিপি নেতাদের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে চলেছে সরকার। বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেকের এই হুঁশিয়ারি শুধু কথার কথা নয়। এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল।











Discussion about this post