একটি দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার কাজটি যে কত কঠিন সেটা একমাত্র তাঁরাই বলতে পারবেন, যারা কাজটি করেছেন। একটি প্রাণ নয়, হাজার হাজার প্রাণের আত্মাহুতির মধ্যে দিয়ে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। সেই সব শহীদদের কথা আমরা অনেকেই জানি না। ইতিহাসের পাতায় যাদের নাম লেখা থাকে, শুধুমাত্র তাদের পরিচয়টুকু আমরা জানতে পারি। ইতিহাসের পাতায় সবার নাম লেখা থাকে না। একটি দেশকে স্বাধীন করতে তাদের অবদান অস্বীকার করা যায় না। এই ভারত বহু বছর ব্রিটিশশাসনের অধীনে ছিল। ব্রিটিশ শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে পথে নেমেছিলেন বহু মানুষ। তাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গান্ধিজি থেকে শুরু করে নেতাজি, ভগৎ সিং। যদিও স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধ শুরু হয় তারও আগে। বলা হচ্ছে নীল বিদ্রোহের সূচনার মধ্যে তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু। দীর্ঘ লডা়ইয়ের পর স্বাধীন ভারতের জন্ম হয়। কিন্তু স্বাধীনতা আন্দোলনে কার অবদান বেশি আর কার অবদান কম, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে না। সেটা করা মানে বিপ্লবীদের অসম্মান করা। একটি দেশ স্বাধীন হয় সামগ্রিক আন্দোলনের ভিত্তিতে। এই লড়াই কারও একার নয়। এই লড়াই কেউ নিজের বলে কৃতিত্ব ঘোষণা করে না। একটি দেশকে স্বাধীন করার পিছনে একজন বা একাধিক নেতৃত্ব দিতে পারেন। কিন্তু কৃতিত্ব দাবি করাটা শোভন নয়।
কিন্তু দেশটার নাম বাংলাদেশ। তাই, সেখানে বহু বিচিত্র ঘটনা ঘটতে পারে। না ঘটলে ধরে নিতে হবে ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। এই যেমন আসিফ মাহমুদ বলে বসলেন, জিয়াউর রহমানকে কখনই স্বাধীনতার ঘোষক বলা যাবে না। তিনি এই নিয়ে তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করেছেন। গত ২৭ মার্চ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি লেখেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক’ এই কথাটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক’ কথাটি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে তিনি সংবিধানের ষষ্ঠ তপশিলের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদের পাতার ছবি পোস্ট করেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাত শেষে অর্থাৎ, ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে বলা আছে। এই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ‘আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে’– এই বক্তব্যটি পোস্ট করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, এটা আসলে মিডিয়ার ফুটেজ খাওয়ার চেষ্টা। এই ধরনের কথা বললে দেশে বিতর্ক তৈরি হবে। তাঁকে নিয়ে আলোচনা হবে। তিনি মিডিয়া থেকে জনগণের মধ্যমণি হয়ে থাকবেন। কিছুদিন আগে এই আসিফ মাহমুদকে বলতে শোনা যায় ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্রের কথা। আসিফ বলেন, ‘আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদেরকে আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের কাছ থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিলো, ‘শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটি আপনারা শেষ করুন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’
তিনি জানান, প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এসব গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি একটি রাজনৈতিক রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়। ওই রোডম্যাপে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাজা বহাল রেখে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়।’ তার কথায় ডিপ স্টেট পুরো একটি কৌশল তৈরি করে দিয়েছিল। সেই কৌশল হল, কীভাবে তাদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ক্ষমতায় থাকা যায়। তবে এনসিপি তাদের সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। তিনি আরও বলেন, এনসিপি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল বলেই তারা স্বেচ্ছায় অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেন।
এবার স্বাধীনতার ঘোষককে নিয়ে শুরু করলেন এক কুৎসিত লড়াই।











Discussion about this post