বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে কান পাতলে শোনা যাবে একটিমাত্র দলের কথা। দলটির নাম আওয়ামী লীগ। আজ প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ধরে দলটির সঙ্গে জাতীয় রাজনীতির সম্পর্ক নেই। শেখ হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। অনুমান করা হচ্ছে তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন সেখানে। দেশের বহু নেতা কোথাও না কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছেন। হাসিনা চলতি মাসের গোড়ার দিকে দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তিনি তাঁদের মাঠে নামার নির্দেশ দেন। উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে মানসিকভাবে প্রস্তুত। অপেক্ষা করছেন মাহেন্দ্রক্ষণের। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, হাসিনাকে দেশে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে উদ্যোগ নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইউনুস সরকার। তাঁকে হাতিয়ার করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দলটির প্রতীক ফ্রিজড করে দেয়। ফলে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছে। জামায়াত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভোটপ্রচারের সময় জামায়াত ছিল বেশ আত্মপ্রত্যয়ী। নিশ্চিত ছিল তারাই ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। ভোটের আগে বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে জামায়াত সরকার গঠন করতে চলেছে। যুক্তি হিসেবে তারা তুলে ধরে আমেরিকার সমর্থন। আমেরিকাও কিন্তু চেয়েছিল জামায়াত ক্ষমতা দখল করুক। কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ভোট দিয়েছে বিএনপিকে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের কাঁধে গুরুদায়িত্ব। সেই সব দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশটিকে আর্থিক দিক থেকে সাবলম্বী করে তোলা। বিভিন্ন দেশের কাছে আগের সরকার মোটা টাকা ঋণ করেছে। সেই ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব এখন তারেক সরকারের। সেই সব দায়িত্বের পাশাপাশি গুরুদায়িত্ব হল হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা। জাতীয় রাজনীতির অঙ্গন আওয়ামী লীগের জন্য খুলে দেওয়া। সম্প্রতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের একটি ফোটোকার্ড ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে জাতিসঙ্ঘ আগামী এপ্রিল বা মে মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগকে জাতীয় রাজনীতিতে ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে। যদিও সেই তথ্য ঠিক নয়। জাতিসঙ্ঘ থেকে এই নিয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা জাতিসঙ্ঘের গত জুলাই-অগাস্টের একটি রিপোর্টের কথা বলছেন। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, অপরাধের বিচার হতে হবে। তবে কোনও রাজনৈতিকদলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা নয়। সেই সঙ্গে বলেস তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের তরফে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। সেই সাক্ষাৎকারে তাঁকে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তারেক তাঁর জবাবে দলটির নাম উচ্চারণ করেননি। তবে জানিয়ে দেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণার পক্ষপাতি নন। তারেকের ওই বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে তিনিও চাইছেন আওয়ামী লীগ জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে আসুক। কিন্তু তারা কীভাবে ফিরবে, বিএনপি বা কিইভাবে তাদের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনবে, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি বিষয়ে কোনও প্রান্তেই কোনও সন্দেহ নেই যে আগের সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞার এখন আর কোনও মূল্য নেই। তাছাড়া হাসিনা নিজেই জানিয়েছিলেন, ইউনুস সরকার অবৈধ। তাই, সেই সরকারের নিষেধাজ্ঞারও কোনও বৈধতা থাকে না।
এদিকে, গুঞ্জন রয়েছে আওয়ামী লীগের লবিস্ট ফার্মগুলি জাতিসঙ্ঘকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। চাইছে জাতিসঙ্ঘের মধ্যস্থতা। জাতিসঙ্ঘকে তারা কতটা বোঝাতে সক্ষম হবে সেটা এখন দেখার বিষয়। আওয়ামী লীগের ফেরার বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রভাবের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












Discussion about this post