সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বুধবার বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মাগরিবের নামাজে ইমামতি করেন। এ ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভেসেছেন সেনাপ্রধান। অনেকেই সেনাপ্রধানের নামাজে ইমামতি করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য জানালেও, কিছ ব্যক্তি তির্যক মন্তব্যও করছেন।
তবে এই সমালোচকদের প্রতিক্রিয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়া বা কড়া জবাব দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ মো. শহিদুল ইসলাম।
নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘ওয়াকার যৌবনের ধারালো সময়েও ইমামতি করতেন।’ স্ট্যাটাসে তিনি মিলিটারি একাডেমিতে একসঙ্গে কোর্স করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
তিনি লেখেন, ‘সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার নামাজে ইমামতি করছেন এমন একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেনাপ্রধান ইমামতি করেন? উনি কি সেনাপ্রধান হওয়ার পর এটা শুরু করেছেন? প্রশ্ন অনেকের।
২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন এক সংবর্ধনা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। ইফতার শেষে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা মাগরিবের নামাজে অংশ নেন। এসময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান নামাজে ইমামতি করেন। তার পেছনে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিরা।
আবু রুশদ মো. শহিদুল ইসলাম লেখেন, ‘সমালোচনা করেন ভালো কথা। সমালোচনার অধিকার সবার আছে। আমরা যখন গণতন্ত্র চাই তখন সমালোচনা থাকবেই, কিন্তু সেটা তো সভ্যভাবেও করা যায়। শালীন ভাবেও করা যায়। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, আছে অকল্পনীয় অসভ্যতা, অশালীন ভাষা প্রয়োগ। জানি না এখন পরিবারে, মাদ্রাসায়, স্কুলে এসব শেখানো হয় কিনা?!
তিনি আরও যোগ করেন, “সমালোচনা করা সবার অধিকার, তবে সেটা সভ্য ও শালীনভাবে করা উচিত। সেনাপ্রধানের নামাজ পড়া ও ইমামতি করার বিষয়টি তার ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং এটি তাকে ফরজ হওয়ায় তিনি নিয়মিত নামাজ পড়েন।”
অর্থাৎ, সেনাপ্রধান তার ইমামতির বিষয়টি নিয়ে তির্যক মন্তব্য গুলিকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছেন সেটা পরিষ্কার। কারণ তার বন্ধু যখন ওই ব্যক্তি গুলিকে কড়া জবাব দিচ্ছেন তখন নীরব থেকে সেনাপ্রধান তাকে একপ্রকার সমর্থনই জানাচ্ছেন।












Discussion about this post