ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় বিচারক বদলিতে আসিফ নজরুল না কি ৫০ লক্ষ টাকা থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিতেন। জামিন বাণিজ্য করে আত্মসাৎ করেছেন কোটি কোটি টাকা। আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের জন্য ড, ইউনূস তাঁর নিজের নামে তৈরি করেছেন আলাদা একটি ট্রাস্ট। সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত আটটি অভিযোগ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শত শত দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যালয়ে। দায়িত্ব ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যে এই উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে এসব লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, যে হারে অভিযোগ আসছে তাতে মনে হচ্ছে, অভিযোগের রেকর্ড হবে। অধিকাংশ অভিযোগে অভিযোগকারী নাম প্রকাশ করেননি, তবে কয়েকটি অভিযোগে অভিযোগকারী নাম-পরিচয় উল্লেখ করেই লিখিত চিঠি দিয়েছেন দুদকে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ড. ইউনূস কীভাবে নিজের নামে একটি ট্রাস্ট তৈরি করে গ্রামীণ কল্যাণ ও গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এই অভিযোগে বলা হয়েছে আয়কর ফাঁকি এবং অর্থ আত্মসাতের জন্য ইউনূস তাঁর নিজের নামে একটি ট্রাস্ট করেছেন। ট্রাস্টের একমাত্র কাজ ছিল ইউনূসের পরিবারের দেখাশোনা করা। এইভাবে ড. ইউনূস বিপুল পরিমাণ আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে সাবেক আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও। তদারকি সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা জামিন বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। একটি শিল্পসংস্থার সিইওর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে ভাই এবং বোনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন। ছোট বোন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পিবিআই মামলার তদন্ত করে জালিয়াতির প্রমাণ পায়। আসামির বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। অভিযোগ, আসিফ নজরুল ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে আসামিকে জামিন দেওয়ার নির্দেশ দেন। গান বাংলা টেলিভিশনের তাপসেরও মোটা টাকার বিনিময়ে জামিনের ব্যবস্থা করেন আসিফ। গত ১৮ মাসে টাকার বিনিময়ে বহু জামিন করিয়েছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণের পর উত্তরা, বাড্ডা, গুলশান, সাভারের মতো লাভজনক এলাকায় সাব রেজিস্ট্রার পদে বদলি করেন। এসব বদলির বিনিময়ে তিনি মোটা টাকা কামিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাদ নেই পূর্বতন তদারকি সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দ রিজাওয়ানা হাসান। তাঁর বিরুদ্ধে অনন্ত আটটি অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরে একাধিক প্রকল্প থেকে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া রিজওয়ানার বিরুদ্ধে অন্যের সম্পত্তি জোর করে দখল করার অভিযোগ রয়েছে। একটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের বিরুদ্ধে সামিট গ্রুপের থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতি, হাসপাতাল ক্রয়বিক্রয়ে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ অভিযোগই ভুক্তভোগীরা নাম-ঠিকানাসহ করেছেন। ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণও দেওয়া হয়েছে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন একজন।
এই প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যদি তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায় এবং সেগুলো আমলযোগ্য হলে তা তদন্ত করা উচিত। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। অভিযোগের সত্যতা পেলে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।












Discussion about this post