দীর্ঘ বিরতির পর আবার সংবাদের শিরোনামে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবন্যাল (আইসিটি)। এটি তৈরি হয়েছিল হাসিনার আমলে। তাঁর একটা উদ্দেশ্য ছিল। যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্তদের বিচারের উদ্দেশ্য। পূর্বতন তদারকি সরকার এই ট্রাইবুন্যালকে আওয়ামী লীগার এবং হাসিনা আমলের সেনাকর্তাদের কাঠগড়ায় তোলে। আইসিটিতে কেন সেনাকর্মকর্তাদের বিচার হচ্ছে, এই প্রশ্ন ফের উঠতে শুরু করেছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় সেনাকর্মকর্তাদের কেউ কেউ কোনও অপরাধে জড়িত, তাঁদের বিচারের জন্য তো বাহিনীর নিজস্ব আদালত রয়েছে। সেখানে তাদের বিচার হওয়ার কথা। ওই সব সেনাকর্মকর্তা কি সত্যিই কোনও না কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত? জড়িত থাকলে সেই অপরাধের প্রমাণ আছে তো?
হাসিনা সরকার আইন করে এই ট্রাইবুন্যাল গঠন করেন। কিন্তু ২০২৪ সালে ক্ষমতায় পালাবদলের পর দেখা গেলে বাহিনীর কয়েকজন কর্মরত এবং প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অদ্ভুতুরে মামলা দায়ের করা হয়। একেকটি মামলায় শতশত আসামী। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদারকি সরকার মামলা দায়ের করেন। এক আধটা নয়, সাড়ে ছশোর বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যে সব সেনাকর্তাদের বিরুদ্ধে আইসিটি-তে মামলা করা হল, যে অপরাধের কথা বলে মামলা করা হয়েছে, তারা কি সত্যিই সেই অপরাধ করেছে? কীভাবে এই সব সেনাকর্তাদের বাছাই করা হল? সেনা আইন থাকার পরেও ট্রাইবুন্যালের আইনকে ঘসামাজা করা হয়েছে। ফলে, সেনা আইনের সঙ্গে ঘসামাজা করে তৈরি করা আইনের সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়েছে। আর সেনাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই সব করা হয়েছে অবৈধ ইউনূস সরকারের নির্দেশে। তিনি এর জন্য অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। যদিও নিউজ বর্তমান সেই অডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। অডিওতে আইসিটির এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোটা টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এই ঘুষ চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের এক সদস্যের জামিনে মুক্তির বিনিময়ে। অভিযুক্ত সরকার পক্ষের আইনজীবী। বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিক “প্রথম আলো” পেয়েছে অভিযুক্ত আইনীজীবীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের পরিবারের এক সদস্যের ফোন কথোপকথনের অডিও। অভিযুক্তি আইনজীবীর নাম সাইমুম রেজা তালুকদার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর জামিনের ব্যবস্থা করতে তিনি তাঁর পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন।
হাসিনা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই আইসিটি গঠন করেন, ইউনূস আমলে সেই আসিটির চরিত্রগত বদল ঘটে। এটা হয়ে উঠেছে রোজগারের একটি রাস্তা। পাশাপাশি এটা হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বাস্তবায়ন করা। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে “নিকেশ” করার কৌশল। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই কিন্তু জুলাই আন্দোলন। কিন্তু পরিকল্পনামাফিক কাজ না হওয়ায় ইউনূস সরকার হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিয়োগ তুলে আইসিটিতে মামলা দায়ের করে। ইউনূস সরকারের আমলে আইসিটি হয়ে উঠছেল টাকা রোজগারের একটি চ্যানেল। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে সব সেনাকর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশ হাসিনার আমলে। আর এই সব মামলা করা হয় অর্থের বিনিময়ে। একটি গণমাধ্যমের এক সাংবাদিকের দাবি, এই অর্থলেনদেনের প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। কোনও এক ব্যক্তি তাজুল ইসলামকে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনীর কয়েকজন প্রাক্তন এবং কর্মরতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে বাহিনীর মনোবল এবং মেরুদণ্ড ভাঙতেই আইসিটিতে মমলা দায়ের করা হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, বাহিনীর সেই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যারা পুরোপুরি পেশাদার। বাহিনীতে থাকাকালীন তারা পেয়েছেন অজস্র পুরস্কার। অভিযোগ উঠছে, এটা একটি ষড়যন্ত্র, যে ষড়যন্ত্রে সামিল বাংলাদেশের প্রথম সারির দুটি গণমাধ্যম।












Discussion about this post