গত বছর ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে পড়ে যে বিমানে করে দেশ ছাড়তে হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানা যাচ্ছে, সেই বিমানে করেই সসম্মানে দেশে ফিরতে চলেছেন তিনি। তবে বিরোধীদল গুলি চাইছে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে। এমনকি হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে সবচেয়ে চিন্তিত তারাই। দলগুলি চাইছে আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়েই সে দেশে একটি নির্বাচন করিয়ে নিজেদেরকে ক্ষমতার অলিন্দে নিয়ে আসতে। অন্যদিকে, সে দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কি ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি?
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস তার নাকি কোনওদিন ইচ্ছেই ছিল না, দেশের প্রধান হওয়ার। কিন্তু একবার যখন প্রধান হলেন, তখন আর সিংহাসন ছাড়ার কথা তুলছেন না। সামান্য নির্বাচন করাতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। কিন্তু সত্যিই তিনি ক্ষমতা হারানোর ভয় পাচ্ছেন, নাকি তার অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে?
২০২৪ এর ৫ই অগাষ্ট। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। তারপর কয়েকদিন বাংলাদেশে চলেছিল সেনা শাসন। এরপর তদারকি সরকার গঠিত হয়। মহম্মদ ইউনূসের কথা অনুযায়ী, তিনি তখন ফ্রান্সে ছিলেন। তখন তিনি কিছুই জানতেন না। হঠাৎ তাকে ফোন করা হয়। অনুরোধ করে বলা হয়, অন্তবর্তী সরকারের প্রধান হতে হবে তাকে। আর সেইমতো দেশে ফিরে বাংলাদেশের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন তিনি।
এখন প্রশ্ন হল, সত্যি যদি তাই ঘটবে, তবে কেন তিনি দেশে শান্তি ফেরাতে সচেষ্ট নন? এছাড়াও তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই বলেছিলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করিয়ে একটি স্থায়ী সরকার ক্ষমতায় নিয়ে আসা হবে। দেখতে দেখতে আট মাসেরও বেশি সময় পর হয়ে গেল।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে। বেড়েছে বেকারত্ব। মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। এদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। সংখ্যালঘুরা নিরাপদে নেই। তাদের উপর হয়ে চলা অত্যাচার বেড়েছে। জঙ্গি সংগঠনগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যেগুলি শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ ছিল। কাজেই অরাজক পরিস্থিতিতে রয়েছে বাংলাদেশ। পুলিশ প্রশাসনকে সেভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না মহম্মদ ইউনূস।
এতকিছুর পরেও মহম্মদ ইউনূসের মনোভাব দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি ক্ষমতা ছাড়তে চান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের কথা প্রধান উপদেষ্টার মুখে কতবার শোনা গিয়েছে, সেটা গুণে বলা যায়। এমনকি সম্ভাব্য সময় জানিয়েছেন। অর্থাৎ তার অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি সারার কোনও পরিকল্পনা নেই। আসলে ইউনূস ক্ষমতা ছাড়তেই চাইছেন না। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নাহলে তার মদতে গড়ে উঠত না রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। আসলে তাদের ভরসার কাঁধ তৈরি করছেন। যাতে নির্বাচন হলেও তারাই জিতবে। আর তাকে ক্ষমতার অলিন্দে বসায় ছাত্র নেতারা।
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও থেমে থাকেননি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ”উনি নিজেই গণআন্দোলনের পরিকল্পনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার জন্য ইউনূস এই পরিকল্পানা করেছে ।শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য। এখানে কোনও ছাত্র-জনতা ছিল না। অর্থাৎ ৭ জুলাই থেকে আন্দোলনের নামে যে খেলা চলছিল, তাতে পুলিশ কোনও গ্রেনেড মারেনি বরং ছাত্রদের বঙ্গভবনে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা দিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস, তিনি আবার শান্তির জন্য নোবেল জয়ী। কিন্তু নিজের দেশে কতটা তিনি শান্তি নিয়ে আসতে পারলেন, সেটা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন। অনেকে আবার বলছেন, দেশে যতটুকু শান্তি ছিল, সেটাও বিঘ্নিত হয়েছে তার আমলে। আসলে মহম্মদ ইউনূস যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন, তাতে এই পরিস্থিতি হওয়ারই কথা ছিল। বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।












Discussion about this post