ভারত চিকেন নেক-য়ের খুব কাছাকাছি তিন জায়গায় তিনটি নতুন সেনা ছাউনি তৈরি করেছে। একটি অসমের ধুবড়ির কাছে বামুনি। বিহারের কিষাণগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া। সেনাসূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, পূর্ব সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতেই এই পদক্ষেপ। ভারতের ওপর একটি গণমাধ্যমের দাবি, ভারতীয় সেনার এই ‘অতি সক্রিয়তা’ নিয়ে পদ্মপারেও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সেখানে ইতিমধ্যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে ভারতীয় সেনা যে কোনও মূহুর্তে সীমান্ত টপকে সে দেশে ঢুকে পড়তে পারে। চোপড়া থেকে শিলিগুড়ি করিডোরের দূরত্ব মাত্র ৫২ কিলোমিটার। আবার বাংলাদেশের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে এর দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। এখানে রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর ব্রহ্মাস্ত্র কর্পস। ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চল কম্যান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়াড়ি সম্প্রতি অসমের ধুবড়ি এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া সেনাঘাঁটি পরিদর্শন করেন। জানা গিয়েছে ধুবড়ির লাচিত বরফুকানে দুটি নতুন সেনা ছাউনি তৈরি হবে। বৃহস্পতিবার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়াড়ি সেই সেনাছাউনির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সূত্রের খবর, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেখানে চলছে ক্যাম্প তৈরির কাজ। দুটি ছাউনি তৈরি হবে বামুনিতে।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ইদে এখানে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ইন্ধন ছিল বলে অনুমান। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর তিনি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আর্জি জানান ধুবড়ির এই দুই জায়গায় নতুন দুটি সেনা ছাউনি তৈরির। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক আর্জিতে সাড়া দেয়। সাড়া দেওয়ার আরও একটা কারণ রয়েছে। এই অঞ্চল থেকে শিলিগুড়ি করিডোরের দূরত্ব ২৫০ কিলোমিটারও নয়। এখানে সেনা ছাউনি তৈরি হল চিকেন নেক কে আরও নিরাপদ করে তোলা যাবে। চিকেন নেক চওড়ায় মাত্র ২২ কিলোমিটার।
ভারতীয় সেনার এই তৎপরতায় কিছুটা হলেও ভীত বাংলাদেশ। তারা এখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটি লালমনির হাট সংস্কারে হাত দিয়েছে। এই কাজে তাদের সাহায্য করছে চিন। সূত্রে খবর, লালমনির হাটে তৈরি হবে হ্যাঙার। থাকবে যুদ্ধবিমান। চিনের থেকে বাংলাদেশ কিনেছে ১০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান সি জে টেন। লালমনির হাটের ছাউনিতে ওই বিমানগুলিকে রাখা হবে। ভারতীয় সেনার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছে, এই তিন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনার আচমকা তৎপরতা বৃদ্ধির কারণ চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের মাখামাখি। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বদলে যাওয়া পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রেখেছে। বিশেষ করে পাকিস্তান সেনার উচ্চপর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় সেনা আর চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে রাজি হয়নি। ভারতীয় সেনাগোয়েন্দারা খবর পেয়েছেন তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের টার্গেট এখন এই শিলিগুড়ি করিডোর। তার একার পক্ষে এই এলাকা দখল করা সম্ভব হবে না অনুমান করে তিনি চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তবে সেনাকর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশ ভুল করেও যদি চিন আর পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চিকেন নেক-য়ের গলার টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা করে, তাহলে ভারতীয় সেনা পাল্টা জবাব দেবে। যমুনা ভবনের বাসিন্দা এবং উত্তরপাড়ার যাবতীয় ছক ভেস্তে দেওয়ার মতো রসদ সীমান্তে মজুত করা আছে।












Discussion about this post