আবার সংবাদ শিরোনামে বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি। বাংলাদেশের এই পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে অশান্তি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, খাগড়াছড়ির দূর্গম এলাকা বর্মাছড়িতে শোনা যাচ্ছে গুলির শব্দ। তারপর বিস্ফোরণ। ভয়ে আট থেকে আশি সকলেই আতঙ্কিত। সেখানে বাংলাদেশ সেনার আনাগোনা শুরু হয়েছে। এলাকাটি রাঙ্গামাটির কাউখালি ও ননিয়ার চর, এমনকী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সীমান্তপথের সঙ্গে সংযুক্ত। বলা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের জন্য আত্মগোপন করার এটা আদর্শ জায়গা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং তাদের ছায়া সংগঠন এলাকাকে তপ্ত করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এখানে চোরাপথে প্রবেশ করছে অবৈধ অস্ত্র। বেড়েছে অপহরণ, চাঁদাবাজি, খুন সহ যাবতীয় অসামাজিক কার্যলাপ। চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, সাঁওতাল সহ নানা গোষ্ঠীর সাধারণ মানুষ দুই আগুনের মাঝে নিরীহ হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেনা অভিযানের সাফল্য তেমনভাবে আসেনি। দুর্গম অঞ্চল হওয়ায় বাহিনীকে সেখানে পৌঁছতে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
সেনা অভিযান শুরু হতেই ইউডিএফ-য়ের তরফে ছড়িয়ে দেওয়া হয় গুজব। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় বাহিনী দখল করেছে বনবিহার। ছবির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই মর্মে পোস্ট করা হয় পাহাড়ে ধর্মীয় নিপীড়ন চলছে। অথচ বাংলাদেশ প্রশাসনের দাবি, যা নিয়ে বিতর্ক সেটি একটি সরকারি খাসজমি। ১৯৩৪ সালের কলকাতা গেজেটে এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল। সেনাবাহিনী চাইছে সেখানে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করতে। আর সেটাই ইউপিডিএফ-য়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। তারা গুজব ছড়িয়ে বাহিনীর বিরুদ্ধে লোক খেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। সূত্রের খবর, ওই অঞ্চলে বসবাসকারী মহিলা এবং শিশুদেরকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কীভাবে বাহিনীর সঙ্গে প্রতিরোধ করা যায়, তার জন্য নীল নকসা তৈরি করেছে ইউডিএফ। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে সব দেশে সেনাবাহিনীর বাঁধন আলগা হয়েছে সেই সব দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি মাথা চাড়া দিয়েছে। বাংলাদেশের খাগড়াছড়িতে মাথাচাড়া দিচ্ছে ইউডিএফ-য়ের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদীশক্তি। এমনকী রাষ্ট্রের শৈথ্যিল্য নির্মাণ করে রাষ্ট্রের ভিতরে আরও এক রাষ্ট্র। অনেকে ইতিমধ্যে বলতে শুরু করেছে, বর্মাছড়ি থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিলে এখানে একটি অবৈধ সরকার তৈরি হবে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করবে গোটা খাগড়াছড়ি।
বাংলাদেশের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশন শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করা থাকলেও ইউপিডিএফ-য়ের সদস্যরা সেই রামসু বাজারে অবরোধ করে। পালটা বাধা দেয় সেখানকার বাসিন্দারা। একসময় উভয়ে বাদানুবাদ এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে যায়। খবর পেয়ে সেনা সেখানে গেলে ইউপিডিএফ-য়ের সদস্যরা ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিন অফিসার সহ ১০জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রামগডেও বাংলাদেশ সেনার ওপর হামলা চালায় এই বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। তাদের নিশানায় সেখানে বসবাসকারী বাঙালিরা। সেনাবাহিনী বাধ্য হয়ে গুলি চালায়। ঘটনায় শতাধিক আহত হয়েছেন। পরে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আরও বাহিনীকে পাঠানো হলে ইউডিপিএফ পিছু হঠতে বাধ্য হয়। বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ গোটা এলাকা সেনাবাহিনী ঘিরে ফেলে। এই খবর লেখাপর্যন্ত নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বাহিনীকে সেখানে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাষ্ট্র যদি নিজের অস্তিত্বকে পাহা়ড়ে প্রমাণ করতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে এক অনিবার্য অন্ধকার নেমে আসবে।












Discussion about this post