তিনি এসেছেন সুদূর মার্কিন মুলুক থেকে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত বলেই তিনি খ্যাতিমান। আর বাংলাদেশে তারা সফর নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কেন তিনি এলেন? কেন তিনি আগে তিনি দিল্লি গেলেন? দিল্লি থেকে তিনি কী বার্তাই বা নিয়ে এসেছেন? তাঁর বাংলাদেশ সফরের প্রধান কারণ কি তারেক রহমান সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত মজবুত করা? না কি পূর্বতন সরকারের আমলে দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে, সেটা যাতে বিএনপি সরকার কার্যকর করে, সেই বার্তা দিতেই বাংলাদেশ সফরে এসেছেন? না কি হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় রাজনীতিতে ফেরার ব্যাপারে বিএনপি সরকারের মনের ইচ্ছা পাঠ করতেই এত টাকার জ্বালানি তেল পুড়িয়ে বাংলাদেশ এসেছেন। প্রশ্ন একাধিক। তবে ট্রাম্পের বিশেষ দূত পল কাপুর যে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার প্রমাণ পদ্মাপারে তাঁর সক্রিয়তা। ট্রাম্পের তরফ থেকে যে বার্তাটি দেওয়া হচ্ছে সেটা হল তারা কোনও ইসলামি চরমপন্থার বিকাশ চায় না। তারা দেখতে চাইছে বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে।
পল কাপুর চলে যাওয়ার পর পদ্মাপারে এখন একটা আলোচনা – ট্রাম্পের বিশেষ দূতের সঙ্গে কি আওয়ামী লীগের কোনও শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে? বৈঠক হয়ে থাকলে সেই বৈঠকে ট্রাম্পের এই বিশেষ দূত কী বার্তা দিয়ে গেলেন? বাংলাদেশের রাজনীতির অভিমুখ কী হবে, সেটা নির্ধারণ করতেই পল কাপুর ঢাকায় এসেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। কোনও কোনও মহল মনে করছে পূর্বতন সরকারের আমলে হওয়া চুক্তির বিষয়ে বিএনপি সরকারের মনোভাব বুঝতেই ট্রাম্প তাঁর বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। পূর্বতন সরকার ভোটের ঠিক তিনদিন আগে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে। তদারকি সরকারের তরফে তখন বলা হয়েছিল, চুক্তির শর্ত প্রকাশ করা যাবে না। কিন্তু আমেরিকা সেই চুক্তি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গিয়েছে তারেক রহমান সরকারের কাছে এই চুক্তি আসলে গলার কাঁটা। চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে গম থেকে শুরু করে বোয়িং বিমান প্রতিবছর ১০০ কোটি ডলারের পণ্য কিনতে হবে। এমনকী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য বাংলাদেশ কিনতে বাধ্য থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সঙ্গে এই ধরনের একটি চুক্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকায় তাদের পক্ষে এই চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। ২৪-য়ের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়েছে। দেশ শাসনের দায়িত্ব পান ইউনূস। আর তাতে লাভের লাভ হয়েছে আমেরিকার। রাজনৈতিকভাবে না হলেও বাণিজ্যিকভাবে তো বটেই। তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ বাংলাদেশ-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি। বুধবার তিনি বুধবার তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ দিনের আলোচনায় প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তি।
বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার মূল কারিগর কিন্তু আমেরিকা। আমেরিকা চেয়েছিল বাংলাদেশ তাদের হাতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ তুলে দিক। হাসিনাকে রাজি করাতে পারেনি। মার্কিন প্রশাসন বছরের পর বছর হাসিনা সরকারকে সামরিক চুক্তি করতে বলেছিল। হাসিনা রাজি হননি। শেখ হাসিনাকে জিসোমিয়া ও আকসা চুক্তি করাতে রাজি করাতে পারেনি ওয়াশিংটন। বিএনপি সরকারের আমলে সেই চুক্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা থেকে এলএনজি সহ সব ধরনের জ্বালানি কেনার জন্য হাসিনা সরকারকে লাগাতার চাপ দিয়ে এসেছিল আমেরিকা। মার্কিন চাপের কাছে নতিস্বীকার করতে তিনি রাজি হননি। ফলে, হাসিনা ক্ষমতায় থেকে গেলে আমেরিকার স্বার্থ যে কোনওভাবেই পূরণ হবে না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল ওয়াশিংটন ডিসি। তাই প্রথমে তারা ইউনূসকে বসাল। তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়ে বিশেষ লাভ না হওয়ায় এবার তাদের দাবার বোড়ে তারেক রহমান।












Discussion about this post