বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে এলো জেনারেল ওয়াকারের একচ্ছত্র আধিপত্য। বাহিনীতে তিনি বড়ে ধরনের রদবদল ঘটালেন। একবার নয়, পর পর দু’বার। জেনারেল ওয়ারকাার আধিপত্য ফিরে পাওয়ায় ধাক্কা খেল জামাতিকরণ এবং ইরানের ধাঁচে বিপ্লবী সৈন্যবাহিনী গঠনের প্রচেষ্টা। বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ও তাঁর বাহিনীর ভবিষ্যৎ কী হবে, এই বিষয়ে গত দেড় বছরে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ইউনূস ক্ষমতা থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিরোধ ক্রমশ বাড়তে বাড়তে এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে রাজপথ স্লোগান উঠেছিল ওয়াকার না হাসনাত। জামাতের অফশ্যুট এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ প্রকাশ্য সভায় সেনাপ্রধানকে কদর্য ভাষায় গাল দেন। ওয়াকারকে ‘কুকুর’ বলে সম্বোধন করতে তাঁর জিভ জড়িয়ে যায়নি। তবে মুহাম্মদ ইউনূস জেনারেল ওয়াকারের বিরুদ্ধে কুকথা বলেননি ঠিকই। কিন্তু সেনাপ্রধানের ডানা ছাঁটার সেই সঙ্গে তাঁকে উত্যক্ত করতে নানা ধরনের ছক কষেন। বাংলাদেশে আগে জাতীয় উপদেষ্টা বলে কোনও পদ ছিল না। পূর্বতন তদারকি সরকার সেই পদ তৈরি করে খলিলুর রহমানকে ওই পদে নিয়োগ করে। বলা হচ্ছে খলিলকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে নিয়োগ করে ইউনূস সেনাপ্রধান ওয়াকারের ক্ষমতা হ্রাস করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালে সেনা বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পূর্বতন সরকার প্রধান। এই সিদ্ধান্তে সেনপ্রধানের তীব্র আপত্তি ছিল। এমনকী দেড় মাস আগে জানুয়ারিতে খলিলুর রহমান, কামরুল হাসানদের দিয়ে সেনার অভ্যন্তরে একটি মৃদ্যু অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালান। তাতে মদত দেয় জামায়াত। তাদের সেই যৌথ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মাঝে একটা সময় মনে হয়েছিল তদারকি সরকারের চাপের মুখে ভেঙে পড়বেন জেনারেল ওয়াকার। তিনি অবৈধ সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করবেন। দেখা গেল ওয়াকার মেরুদণ্ড সোজা করে ইউনূস সরকারের বিদায় আর বিএনপির ক্ষমতাগ্রহণের সাক্ষী রইলেন। দেশের লোকের মনে এই সন্দেহ একেবারে বদ্ধমূল হয়েছিল যে জেনারেল ওয়াকারের আত্মসম্মান বোধ একেবারে নেই। থাকলে যেদিন তিনি শুনলেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ তাঁকে কুকুর বলে গাল দিচ্ছেন, সেদিনই তিনি সেনাপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিতেন। তিনি যেমন নিজের মান সম্মান বোধ নেই, বাহিনীর মানসম্মান রক্ষা করতেও তাঁর আগ্রহ নেই। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর আজ বোঝা যাচ্ছে সেনাপ্রদান ওয়াকার গত দেড় বছর মুখ বুজে সব সহ্য করে গিয়েছেন। ঝড় সামাল দিয়েছেন। ঝড়বৃষ্টির পর যেমন আকাশ পরিষ্কার হয়। তেমন গত ১৮ মাসে বাংলাদেশে একের পর এক ঝড় বয়ে গিয়েছে। এখন সেনাপ্রধান ওয়াকারের খেলা শুরু হয়েছে। সেনাবাহিনীর ভিতরে জামায়াতপন্থীরা ক্ষমতা প্রায় দখল করে নিয়েছিল। তাদের পিছনে ছিল পাকিস্তান, তাদের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। আর ছিল আমেরিকার সমর্থনও। আমেরিকা যে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে তারা জামাতের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। আমেরিকা ধরে নিয়েছিল যে জামায়াত বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করতে চলেছে। এর ফলে বিপদে পড়েছিলেন সেনাপ্রধান ওয়াকার, সঙ্গে তাঁর বাহিনীও। সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীতে রদবদল দেখে বোঝা যাচ্ছে ইউনূসের বিদায় ও বিএনপির বিজয়ের ফলে জেনারেল ওয়াকার তাঁর শক্তি ফিরে পেয়েছেন। আর সেই শক্তির ব্যবহারও করছেন। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে একটা গোপন বোঝাপড়ায় এসে গিয়েছেন। আর সেই বোঝাপড়ার ফলে সেনার ভিতরে তাঁর শত্রুদের বলা ভালো, যাঁরা তাঁর ঘনিষ্ঠ নন, তাদেরকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সব পদে সেনাপ্রধান নিয়োগ করেন তাঁর ঘনিষ্ঠদের। কয়েকজনকে বদলি করে দিয়েছেন। সেনাবাহিনীতে আমেরিকা ও অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তির প্রভাব ক্রমেই বাড়ছিল। সেই প্রভাব এখন অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। জেনারেল ওয়াকার এখন অনেকটাই স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন। এই রদবদল নিয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে গিয়েছিলেন ইউনূস। কিন্তু জেনারেল ওয়াকারের কাছে তাঁকে হার স্বীকার করতে হয়েছে। আর এখন ইউনূস ক্ষমতাচ্যুত। কারও কারও মতে তিনি জেলখানায় যাওয়ার দিন গুনছেন। অনেকে মনে করছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন কি না, সেটা সময় বলবে। সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ অফিসার জেনারেল কামরুল হাসান আর বাহিনীতে নেই। তিনি ওয়াকারে বড়ো শত্রু ছিলেন। তাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রকে নিয়ে এসেছেন তারেক। ফলে, সেনাপ্রধান ওয়াকার এখন অনেকটাই স্বস্তিতে দিন যাপন করছেন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post