পুলিশ হত্যার কি বিচার হবে? নতুন করে আবার প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছে। জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে তো বটেই, এমনকী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনার দাবি ওঠে। জুলাই সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছে ৪৪ জন পুলিশকর্মী। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পদস্থকর্তাও রয়েছেন। এই সংখ্যাটা সরকারের খাতা-কলমে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাটা তিন শতাধিক বলে অনেক বিশ্লেষক দাবি করছেন। কোনও সংস্থা নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনার তদন্ত করতে পারছে না। তাদের প্রকৃত তালিকা দিতে পারছে না। বলা ভালো তাদের সেই তালিকা প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তারেক রহমান সরকার একবার বলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করবে। আবার বলে জুলাই সন্ত্রাসীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, এই বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা অ্যাকাডেমির কবি শামসুর রহমান হলে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ‘যে যেখানে আছেন, পুলিশকে সহযোগিতা করুন। পুলিশ যেন নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অন্যথায় মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। তবে তারা কোনো অন্যায় করলে সেইটা দেখার দায়িত্ব সরকারের। সেগুলা ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত হবে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
আইজিপি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি। তাদের (সরকার) এক নম্বর এজেন্ডা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা। কারণ আইন-শৃঙ্খলা যদি ঠিক না থাকে, বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না। আমাদের ব্যাংক শূন্য, শেয়ার মার্কেট শূন্য, সর্বক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এই বিপর্যয় থেকে যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হয়, তাহলে আইন-শৃঙ্খলাই সঠিকভাবে পালন করতে হবে। না হলে কোনো উন্নয়ন হবে না।’
আইজিপি আরও জানিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই আর মব কালচার সমর্থন করা যাবে না। সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ সব মানুষকে নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সেটা করলেই আমরা সকলে শান্তিতে থাকতে পারব। দেশকে আপনার সাহায্য করুন। অনেক সময় কোনও ঘটনা ঘটলে সবাই চায় শাস্তি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হোক। বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হোক। কিন্তু বিচার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এটা আমরা সকলেই জানি। তবুও অনেক সময় পুলিশকে চাপ দেওয়া হয় জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার জন্য। তবে সব কিছুর একটা নির্ধারিত সময় লাগে। এই প্রসঙ্গে আইজিপি একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শেরাটন হোটেলে একটি বাস পোড়ানো হয়েছিল। পুলিশ যাকে গ্রেফতার করে সে আদালতে স্বীকার করে নেয় তাঁর অপরাধ। অথচ তাঁর উকিল দাবি করছেন, ‘ না, আসামী তখন রমনা থানার কাস্টডিতে ছিল। এখন আপনিই বোঝেন। এই ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার চাকরি চলে যায়। আসলে সে আরও একটি বাস পুড়িয়েছিল। সেটা কার্জন হলের পাশে, আর এই ঘটনা শেরাটনের মোড়ে ঘটেছিল।’
এই একই বিষয় তোলা হয় সংসদে। রংপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে প্রশ্ন করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী-আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা করেছে; জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, কেউ কেউ আহত হয়েছে। কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে এবং সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সেই বিষয়ে আমরা এই অধ্যাদেশ এখানে গ্রহণ করার জন্য সবাই সর্বসম্মত হয়েছি। সুতরাং আমার মনে হয় সংসদ সদস্য (আখতার হোসন) আশ্বস্ত হতে পারেন।’












Discussion about this post