বাংলাদেশে তৈরি হতে চলেছে এক অভূতপূর্ব সাংবিধানিক জটিলতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা তেমনই আশঙ্কা করছেন। সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হতে চলছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে কেন্দ্র করে। বলা হচ্ছে পূর্বতন তদারকি সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস যে সব অসাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করেছেন বা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার দায় থেকে রাষ্ট্রপতি চুপ্পু নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেন না। অভিযোগ উঠেছে তদারকি সরকার প্রধানের ১৮ মাসের শাসনামলে একাধিক সংবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা উচিত বলে বাংলাদেশের রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি চুপ্পু বাংলাদেশের একটি দৈনিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে ভীষণরকম অবিচল ছিলেন। সে কারণে কোনও ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। বিশেষ করে অসাংবিধানিক উপায়ে তাঁকে উপড়ে ফেলারও ছক তৈরি করা হয়েছিল। ফলে, দেড় বছরে বঙ্গভবনের তাঁর থাকার অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়। তাঁর কথায়, “আমার ওপর দিয়ে যে ঝড় গিয়েছে, এরকম ঝ়ড সহ্য করার মতো ক্ষমতা অন্য কারও ছিল কি না আমার জানা নেই। ” এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশে রীতিমতো আলোড়ন তৈরি করেছে। এই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হওয়ার ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা যায় কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলে নানা জল্পনার জন্ম দেয়। রাজনৈতিকমহল এটাও বলছে, যে অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা যেতে পারে, সেই একাই অভিযোগে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা যেতে পারে।
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মহসিন রসিদ জানিয়েছেন, তিনি ইউনূসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করতে চলেছেন। আইনজীবী জানিয়েছেন, তিনি সরকারকে একটি নোটিশ দেবেন। নোটিশে তিনি সরকারকে একটি কমিশন গঠনের পরামর্শ দেবেন। কমিশনের দায়িত্ব হবে ইউনূস আমলে হওয়া যাবতীয় অসাংবিধানিক কাজকর্ম খতিয়ে দেখা। সেই সঙ্গে তিনি এটা জানিয়েছেন, বিগত ১৮ মাসে তদারকি সরকার প্রধান একবারের জন্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেননি। অথচ সংবিধানে পরিষ্কার বলা হয়েছে, তদারকি সরকার প্রধান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে বাধ্য। তিনি যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা তদারকি সরকার প্রধান যে সব সিদ্ধান্ত নেবেন বলে স্থির করেছেন, সেই সব বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবগত করা দায়িত্ব। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পকে অন্ধকারে রেখেনই ইউনূস তাঁর খেয়ালখুশি মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সংবিধানে বলা হয়েছে, কেয়ারটেকার সরকারের মাথায় যিনি বসবেন, তাঁর সাংবিধানিক ক্ষমতা অনেকটাই প্রধানমন্ত্রীর সমতুল। কিন্তু ইউনূস যে ধারায় তদারকি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন, সেই ধারায় কিন্তু তাঁর ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর সমতুল বলে উল্লেখ করা হয়নি। পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় অংশে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, কৌশলে তার ওপর একরমক চাপ তৈরি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি দাবি করছেন, এটা তাঁর মস্তিষ্ক প্রসূত যে সংবিধানের ১০৬ ধারার মাধ্যমে সংবিধানের বাইরে একটা সরকার গঠিত হতে পারে। সেই সঙ্গে তাঁর আরও দাবি, তিনি প্রধান বিচারপতি ওবাইদুল হাসানের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও দাবি করেন যে প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ প্রক্রিয়ার উৎস তিনি হলেও পরে তাঁর সঙ্গে কোনও সমন্বয় করা হয়নি। এমনকী তাঁর বিদেশ সফর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগদানের পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক রাতের মধ্যে বিদেশের মিশনগুলি থেকে ছবি নামিয়ে আনা হয়।
রাষ্ট্রপতির এই দাবিকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে এটাও বলা হচ্ছে তাঁর তো সাংবিধানিক ক্ষমতা ছিল। তিনি চাইলেও তো ইউনূসের নেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুলিং জারি করতে পারতেন। তিনি সেটা কেন করলেন না।












Discussion about this post