বাংলাদেশের জ্বলন্ত পরিস্থিতি দেখেও নিরব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। যিনি স্বপ্নের মতো সাজানো একটি দেশ, স্বপ্নময় একটি রাষ্ট্রকে শ্মশানে পরিণত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর এর স্মৃতি বিজড়িত ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়ি, যে বাড়ি মানে একটি অদেখা ইতিহাস, ইতিহাসকে আমরা ধারণ করেছি যুগের পর যুগ, কার্যত সেই বাড়িকেই পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হল বাংলাদেশের মাটিতে। যে বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিশ্রম করেছেন রক্ত ঝরিয়েছেন এবং একটি স্বাধীনতার যুদ্ধ লড়েছিলেন, প্রকাণ্ড রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হানাদার শক্তির বিরুদ্ধে প্রাণপাত করতেও পিছু পা হননি, সেই বঙ্গবন্ধুর এই বাড়ি জ্বললো বাংলাদেশে বুলডোজার দিয়ে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হল বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিসৌধ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা ইতিহাসে লেখা হলে কখনোই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নাম সরিয়ে রাখা যাবেনা। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ যদি সত্যি হয় তবে বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের নাম নাম ও সত্যি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে।
শেখ হাসিনার উপর বা আওয়ামী লীগের উপর রাগ থাকতেই পারে তবে একটি প্রকাণ্ড ইতিহাসকে জ্বালিয়ে দেওয়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাদের এ কেমন মানসিকতা?
বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন ও ঐতিহ্য এক লহমায় মাটিতে মিশিয়ে দিল বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই বৈদেশিক সহায়তা বন্ধ হয়ে গেছে ও বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ছাত্রদের একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মূল পরিকাঠামো যে শিল্প এই বস্ত্র শিল্প কার্যতো বাংলাদেশে অসহায় ভাবে ধুকছে। আর এত কিছুর পরও অন্তর্বর্তী সরকার কার্যতন নীরব থেকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি মুছে দেওয়ার জন্য তার প্রাসাদসম বাড়িটি ধ্বংস করে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশে এই সরকারের কোন কার্যকর্তা আছে বলে বর্তমান সময়ে মনে করা হয় না। সমন্বয়ের দেশ চালিয়ে যাচ্ছেন, আর উপদেষ্টার সরকারি পদ আঁকড়ে বসে আছেন কিছু ব্যক্তি যারা বিগত ছয় মাসে কি কাজ করেছেন তাদের আদৌ কি কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বা আগামী ৬ মাসে তারা কি করতে চলেছেন তার কোনও পথনির্দেশিকা তাদের কাছে নেই।
সম্প্রতি একজন সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ হঠাৎ করে ঘোষনা করেছিলেন যে শেখ হাসিনার ভাষণ যদি প্রচার করা হয় তাহলে তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর এর বাড়ি জ্বালিয়ে শেষ করে দেবে। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় এই পুরো বিষয়টির পিছনে বিদেশ থেকে কোন বাংলাদেশি ইউটিউবারের উস্কানি আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সে উস্কানের ফলস্বরূপ হাসনাতের নেতৃত্বে একদল সমন্বয়ক বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়ির সামনে জড়ো হন। তারা জড়ো হয়েছিলেন কারণ শেখ হাসিনা তিনি ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে একটি বক্তব্য রেখেছিলেন, আর হাসনাত বলেছিলেন শেখ হাসিনার সেই বক্তব্য যারা প্রচার করবে যে সংবাদ মাধ্যম প্রচার করবে তারা ফ্যাসিবাদের দোসর। এটি আরও এক প্রকার হুমকি সংবাদমাধ্যমকে। প্রতিনিয়ত সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের ছাত্র সমন্বয়করা। এরাই বৈষম্যের কথা বলে তারা বলে সকলেই স্বাধীনভাবে নিজেদের মত প্রকাশ করবে। বিরোধী শক্তি বা বিপক্ষ মত সকলেরই অধিকার থাকবে এই নতুন বাংলাদেশে। কিন্তু কিছুদিন আগেই এই সমন্বয়ক হাসনাত অভিযুক্ত ছিলেন পাঁচজন সাংবাদিকের চাকরি যাওয়ার অভিযোগে। আর দুদিন আগে তিনি জানালেন যে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ফাঁসিবাদী চরিত্রের সঙ্গে ঠিক যেমন কার্যকলাপ করা হয়েছিল ঠিক সেই রকমই কার্যকলাপ করা হবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে।
এই পুরো বিষয়টি বোঝার পরই শেখ হাসিনা তিনি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জানান যে বাংলাদেশের রাজনীতির খুঁটিনাটি তথ্য তার কাছে আছে। আর যারা এই বাংলাদেশের বিভিন্ন নাগরিকের বা মহলের কন্ট্রোলোধ করার চেষ্টা করছে তাদের দিন ক্ষমা করা হবে না।












Discussion about this post