ইউনূসের ১৮ মাসের শাসন আবর্জনার স্তুপকেও লজ্জায় ফেলবে। নৈরাজ্য তো বটেই। কিন্তু সীমাহীন নৈরাজ্য কাকে বলে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে পূর্বতন সরকারের শাসনামল। তারেক রহমানের দল বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তারা সরকার গঠন করেছেন। তারেক প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছন, তারেক রহমানের পক্ষে মসৃণভাবে দেশ চালিয়ে নিয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়বে। তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, স্থবির অর্থনীতিকে সচল করা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, ভারতসহ বহির্বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা, সংকুচিত শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার। সেই সঙ্গে তাঁকে সামাজিক অস্থিরতা দূর করা, সেই সঙ্গে সর্বসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মধ্যে যে মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে, সেই মৌলবাদী শক্তির মোকাবিলাও তারেককে করতে হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল।
গত ১৮ মাসে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা কেমন ছিল, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ, মব সহিংসতা, দখল ও অবরোধ – এই সব ঘটনায় জনমানসে রীতিমতো উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও থেকে শুরু করে রাস্তা অবরোধ ও সহিংসতার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। নতুন সরকারে প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। দেশে কমেছে বিনিয়োগ। যন্ত্রপাতি আমদানি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমেছে। নির্মাণখাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৯৭ শতাংশে। মূল্যস্ফীতি ৮.৫ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রফতানিতে গতি আনা অত্যন্ত জরুরী। সেই সঙ্গে দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলাটাও তারেকের কাছে কম চ্যালেঞ্জের নয়। এটা বিএনপি সরকারের কাছে বড়ো পরীক্ষা। প্রতিবেশী ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনীয়তা কথা বলেছেন বিশ্লেষকেরা। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কার্যত তলানিতে চলে যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপতি ৩৭ শতাংশ শুল্ক পরে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা জরুরি। ভারতের সঙ্গে ভারসাম্য পূর্ণ পররাষ্ট্র নীতি গঠন করাও তারেকের কাছে কম চ্যালেঞ্জের নয়। গত ১৮ মাসেল বাংলাদেশে একাধিক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে, দেশে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বেকারত্ব। নতুন কর্মসংস্থান না হলে জনামানসে বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নচিহ্নের মধ্যে পড়ে যাবে। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৈরি হয়েছে এক কৃত্রিম সংকট। ভোগ্যপণ্যের বাজারে তৈরি হয়েছে এক অস্থিরতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হবে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৩ থেকে ৪ শতাংশে নামিয়ে আনা। আর সরকারে দায়িত্ব হবে বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরী।
তারেক রহমানের আরও একটি বড়ো চ্যালেঞ্জ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরণ ফিরিয়ে আনা। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামাত দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের তারাই প্রধান বিরোধী দল। দলটি নীতি ও দলের কয়েকজন নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্য বাংলাদেশে নতুন ধরনের এক অস্থিরতা তৈরি করেছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাটাও তারেকের কাছে কম চ্যালেঞ্জের নয়। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টাররের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, সুশাসন, স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি ছাড়া টেকসই সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়। সুষ্ঠ রাষ্ট্রপরিচালনার অন্যতম প্রাথমিক শর্ত হল একটি মজবুত অর্থনীতির ভিত তৈরি করা। সব মিলিয়ে তারেক রহমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও নতুন সরকারের সামনে নীতি, দক্ষতা ও আস্থার সমন্বয়ে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া চ্যালেঞ্জের অপেক্ষা করছে।












Discussion about this post