আমেরিকার রিপাব্লিকান পার্টির হাতে গোনা কয়েকজন সদস্য আছেন, যাদের যুদ্ধবাজ বললে খুব একটা ভুল হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন এক বছর আগে। এই এক বছরের মধ্যে তারা সাতটি দেশে এখনও পর্যন্ত হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধ ঘোষণা করলেও তার দেশের জনগণকে এই যুদ্ধ সমর্থন করেন ? মার্কিন দৈনিকের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের অর্ধেক মানুষ এই যুদ্ধকে সমর্থন করে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের মধ্য মাত্র একজন ট্রাম্পের এই হামলাকে সমর্থন করছেন। আয়াতুল্লাকে হত্যার বিষয়ে প্রতি চারজন মার্কিন নাগরিকের মধ্যে একজন সমর্থন জানিয়েছেন। প্রায় অর্ধেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারে অতি উৎসাহী। অথচ এই ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর পরে কী বলেছিলেন? বলেছিলেন, তিনি যুদ্ধ পছন্দ করেন না। তিনি শান্তির পক্ষে। অন্য কোন দেশে কী হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল ঠিক উল্টো। আগে ডেমোক্র্যাটদের বলা হত যুদ্ধবাজ। ডেমোক্র্যাটরা যখন ক্ষমতায় ছিল, সেই সময় ইরাকে হামলা হয়েছে। এখন তো দেখা যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের থেকে রিপাব্লিকানরা বেশি করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। ইরানের আগে ভেনিজুয়েলায় তারা হামলা চালায়। সস্ত্রীক মাদুরোকে কার্যত অপহরণ করে আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হয়। রিপাব্লিকানদের নীতি নির্ধারকেরা নানা অজুহাতে কোনও না কোনও দেশে হামলা চালিয়েছে।
রয়টার্সের সমীক্ষা অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের মোট ২৭ শতাংশ এই আগ্রাসন নীতিকে সমর্থন করছেন। বিপরীতে ৪৩ শতাংশ এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। ২৯ শতাংশ তাদের মতামত দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এই হামলা বিষয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারী ১০জনের ৯জন জানিয়েছেন, তারা কিছুটা হলেও শুনেছেন। জরিপে উঠে এসেছে ৫৬ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করতে ট্রাম্পের অস্ত্র যুদ্ধ। ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া, নাইজেরিয়া ট্রাম্পের আগ্রাসন নীতির শিকার। রয়েছে ইয়েমেন। ডেমোক্র্যাটদের একটি বড়ো অংশ একই মত পোষণ করেন। ৮৭ শতাংশ মনে করেন যুদ্ধ করতে ট্রাম্প অত্যন্ত আগ্রহী। রিপাবলিকানদের মধ্যে ২৩ শতাংশ এবং কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, এমন ৬০ শতাংশ মানুষও একই মত দেন। ইরানে হামলা চলাকালীন এই সমীক্ষা করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা ইরানের ছিল না। রবিবার (১ মার্চ) মার্কিন কংগ্রেসের স্টাফদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই স্বীকারোক্তি দেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। বৈঠক সম্পর্কে জানেন এমন দুই ব্যক্তি এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের ওপর গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। হামলায় নিহত হন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ডু্বিয়ে দেওয়া হয় ইরানের যুদ্ধজাহাজ, আর এখন পর্যন্ত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কিন্তু কংগ্রেসকে দেওয়া ব্রিফিং এই যুদ্ধ শুরুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ঠিক তার আগের দিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর ‘সম্ভবত আগাম হামলা’ চালাতে পারে এমন ইঙ্গিত পাওয়ায় ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান শুরু করেন।হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ডিলান জনসন জানান, পেন্টাগন কর্মকর্তারা সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের কয়েকটি জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান স্টাফদের ৯০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ইরানে চলা মার্কিন হামলার বিষয়ে ব্রিফিং দেন।












Discussion about this post