ইউনূস বিদায় নিয়েছেন। তবে তিনি সর্বত্র তাঁর পদচিহ্ন রেখে গিয়েছেন। ইউনূস যখন বুঝতে পারলেন তিনি আর বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, তখন তিনি একের পর এক কৌশল নিতে শুরু করেন। সেই কৌশলের উদ্দেশ্য ছিল সরকারে যারাই আসুক না কেন, তারা যেন স্বস্তিতে দেশ চালাতে না পারে। এটা করার সব থেকে সহজ উপায় হল সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা তৈরি করা। এটা হলে সেনাপ্রধান তালগোল পাকিয়ে ফেলবেন। বাহিনীর মধ্যেই তাঁকে চরম ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। ইউনূসের আমলে সেনাপ্রধান একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের সামনে বিবৃতি দিয়েছেন। সেই সব বিবৃতি শুনে অনেকের মনে হয়েছে, তিনি আসলে বাহিনীর প্রধান নন। তদারকি সরকারের মুখপাত্র। বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর যে প্রভাব থাকে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারা সরকারের আসীন হবে, কতদিন তারা ক্ষমতায় থাকবে, সেটা বাহিনীর মর্জির ওপর নির্ভর করছে। সে কারণে বাংলাদেশে অতীতে একাধিকবার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। তবে বাহিনীর মধ্যে কোনও সরকারই মেরুকরণের রাজনীতি করেনি। যেটা করেছে ইউনূস সরকার।
এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় বলা দরকার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিন্তু বেশ শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। সেই সেনাবাহিনী ইউনূসের আমলে কী করে হাতের পুতুল হয়ে গেল, সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ইউনূসের সময়ে বাহিনীতে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মূল কারণ ছিল ২৪ জন সেনাকর্তা, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মরত, এদের সকলের বিরুদ্ধে ভূয়ো মামলা দায়ের করে অন্যায়ভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হচ্ছে। এই নিয়ে বাহিনীতে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। সব কিছুই হয়েছে ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালীন। বহু প্রাক্তন সেনাকর্মকর্তা এই বিচার প্রক্রিয়া মেনে নিতে পারেননি। তাদের যুক্তি ছিল, তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয় যে এরা কোনও না কোনও অপরাধে জড়িত, তাহলে সেনা আইনে তাদের বিচার হওয়া দরকার। কোনও বেসামরিক আদলত অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত সেনাকর্তার বিচার করতে পারে না। সেটা হলে কোনও দেশে সেনা আইন তৈরি হত না। কোর্ট মার্শাল শব্দটির জন্ম হত না। এদিকে, আবার প্রাক্তন দুই সেনাকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই প্রাক্তন সেনাকর্তা হলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরি এবং শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতার অনেকে আবার মেনে নিতে পারছেন না। এদিকে, আবার ক্যান্টনমেন্টে লিফলেট বিলা করা হয়েছে বলে খবর। লিফলেটের প্রতিপাদ্য বিষয় সেনাসদস্যকে কোনওভাবেই বিচারের নামে হেনস্থা করা যাবে না। কারা এই লিফলেট বিলি করেছে সে ব্যাপারে কিছু জানা না গেলেও কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে এই লিফলেট বিলি করেছে বাহিনীতে যারা নানা ইস্যুতে ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজজামানের ভূমিকায় তারা রীতিমতো অসন্তুষ্ট।
ক্যান্টনমেন্টে যখন এই অস্থিরতা চলছে সেই সময় পূর্বতন সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস গিয়েছেন জাপান সফরে। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর বান্ধবী লামিয়া মোর্সেদকে। সূত্রের খবর ইউনূস সেখানে শিনজো আবের স্ত্রী আকিয়ে আবের সঙ্গে দেখা করেন। আলাপচারিতার উভয়ের মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে কথা হয়েছে। একসময় ইউনূস তাঁকে বলেন, তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হতে চাইছেন। আকিয়ে আবে যেন এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। আকিয়ে আবে তারেক রহমানকে ফোন করেন। তাঁর কানে পৌঁছে দেন ইউনূসের ইচ্ছার কথা। সেটা শুনে তারেক রহমান শিনজো জায়াকে কী বলেছেন, সেটা জানা যায়নি। তবে একটি গণমাধ্যম বিএনপি সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, দল কোনওভাবেই এই পদক্ষেপ করবে না। সেটা করা মানে কার্যত আগুন নিয়ে খেলা। ইউনূস শাসনামলে বাংলাদেশের পরিণতি কী হয়েছিল সেটা তারা দেখেছে। দেখেছে গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশকে কোনও অবস্থাতেই আর নরককুণ্ডু করে তোলা যাবে না।












Discussion about this post