দীর্ঘদিন ধরেই ভারত তরল সোনার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ভারত তো বটেই, বিশ্বের অন্যান্য দেশও রীতিমতো উদ্বিগ্ন। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী। ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ যে জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, সেখান থেকে ইরানের ফিরে আসা মুশকলি। ফলে, আগামীদিনে জ্বালানিখাতে আরও বড়ো ধরনের সংকট তৈরি হবে। সেই সংকটের প্রভাব যাতে ভারতের জ্বালানি খাতে না পড়ে, তার জন্য পদক্ষেপ করেছে সাউথ ব্লক। আন্দামান সাগরের প্রায় ৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা, আগে যা নো গো জোন বলে পরিচিত, সেই অঞ্চলে তেলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেখানে খননকার্যের অনুমতি মিলেছে। আন্দামানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডিকে যোশী ঘোষণা করেছেন, দ্বীপপুঞ্জের যে ৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার যা নো গো জোন বলে পরিচিত ছিল, তার মধ্যে ৬৩.৫ % নো গো জোনকে খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় এখান থেকে হাইড্রোকার্বনের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া গিয়েছে মিথেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অঞ্চল থেকে তেল পাওয়া গেলে ভারতের অর্থনীতির চাকা আরও গতি পাবে। কিছুদিন আগে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদ্বীপ সিং পুরী জানিয়েছিলেন, ভারত এই মুহূর্তে গুয়ানা সাইজ তেলের খনি আবিষ্কার করে ফেলেছে। ভাণ্ডারে যে পরিমাণ তেল রয়েছে আন্তর্জাতিকবাজারে তাঁর মূল্য ২০ ট্রিলিয়ন ডলার। এটাকে বলা হচ্ছে জ্যাকপট। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট। এই পরিস্থিতিতে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নো গো জোনে তেল ভাণ্ডারের আবিষ্কার আত্মনির্ভর ভারত হওয়ার পথকে অনেকটাই প্রশস্ত করল।
এদিকে অন্য একটি খবরে জানা গিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের বলি হয়েছেন এক ভারতীয়। গতকাল থেকে এমনই খবর ছড়িয়েছিল। সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সের তরফেও সেরকমই বিবৃতি জারি করা হয়েছিল। কিন্তু, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিবৃতি সংশোধন করেছে সৌদি। সংশোধিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে মিসাইল হানায় দু’জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তবে, ঘটনায় আহত হয়েছেন এক ভারতীয়। তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেছেন দূতাবাসের আধিকারিক। এই নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দশম দিনে পড়ল। কিন্তু, হামলার তেজ এতটুকুও কমায়নি ইরান বা ইজ়রায়েল কেউই। আরও বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে, রাজায় রাজায় যুদ্ধ হলে, উলু খাগরার প্রাণ তো যাবেই। সংঘাতের জেরে মৃত্যুমিছিল বাড়ছে। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কাজের সূত্রে বহু ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় দূতাবাসের তরফে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেও ভারতীয়দের আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসছে। এর আগেও ওমান উপকূলে তেলের ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে এক ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্সের তরফে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছিল,”আল-খার্জ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় মিসাইল হামলা করা হয়েছে। সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কোম্পানির কম্পাউন্ড ছিল। সেখানেই মিসাইল হামলায় দু’জন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক, আরেকজন বাংলাদেশের নাগরিক। মিসাইল হামলায় প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতেরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের বাসিন্দা। এই হামলায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।” তবে, মৃতদের নাম প্রকাশ্যে আনেনি সৌদি আরব।
সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য একটি নির্দেশিকা জারি করেছে নয়া দিল্লি। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকতে হবে। সৌদি আরবে যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, তা মেনে চলার পরমার্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের তরফে আরও জানানো হয়েছে, বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা পরিষেবা চালু রেখেছে। রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মাম এবং ভারতের একাধিক গন্তব্যের মধ্যে পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতে ফিরে আসতে ইচ্ছুক নাগরিকরা এই উড়ানগুলির মাধ্যমে দেশে ফিরে আসতে পারে।












Discussion about this post