ক্ষমতা দখল করতে সেনাবাহিনীর সাহায্যে হাসিনাকে চ্যাংদোলা করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছিল ইউনূস সরকার। জাতীয় নির্বাচনে তারা এবং তাদের কেউ যাতে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করতে না পারে, তার জন্য দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। আওয়ামী লীগ কোথাও মিছিল করছে এই খবর পেলে তদারকি সরকারের লেঠেল বাহিনী সেখানে গিয়ে মিছিল ভণ্ডুল করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দায়ের করে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
দেশের মিডিয়াকে পকেটে পুড়ে নিয়েছে তদারকি সরকার প্রধান। তাদের মনের মতো খবর পরিবেশন করছে। আর ইউনূস সাহেব বলছেন সব ঠিক হ্যায়। হাসিনাকে মানুষ আগের মতই ঘৃণা করে। কারণ, বঙ্গবন্ধু কন্যা ফ্যাসিস্ট। কিন্তু বিদেশি মিডিয়া বলছে, সব ঝুট হ্যায়। বাংলাদেশের ভিতরে কী হচ্ছে সেটা তারা তাদের প্রতিবেদনে তুলে ধরছে। প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, তোমারে বধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে। আওয়ামী লীগ জেগে উঠেছে। বন্যার জলের মতো ভাসিয়ে দিচ্ছে দেশের মানুষকে।
সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য সিঙ্গাপুর পোস্ট তাদের ২৬ সেপ্টেম্বরের সংস্করণে হাসিনাকে নিয়ে একটি বড় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রবন্ধের শিরোনাম আওয়ামী লীগ ডাউন, নট আউট।
এর অর্থ আওয়ামী লীগ নীচে নেমে এসেছে, কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। হাসিনার পতনের মূলে যে সব বিদেশি শক্তি ছিল, তারা এখন হাসিনার প্রতি প্রেম দেখাতে শুরু করেছে। তারা বলতে শুরু করেছে, আওয়ামী লীগের ফিরে আসার সম্ভবনা প্রবল। তবে নেতৃত্ব থেকে হাসিনাকে সরাতে হবে।
কিন্তু সিঙ্গাপুর পোস্ট লিখেছে উলটো কথা। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত। ঢাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল, সমাবেশের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও জনগণের মধ্যে হাসিনার সমর্থন ক্রমাগত উর্ধ্বমুখী। ভারতের সংবাদমাধ্যম আকাশবাণী দিন কয়েক আগে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তীব্র গতিতে নিজের রাজনীতিতে স্থান করে নিচ্ছেন হাসিনা। আর সব চেয়ে বড় কথা, যে দমন পীড়নের ভয়ে মানুষ চুপ করেছিল, তাদের সেই ভয় কেটে গিয়েছে। তারা এখন মুখ খুলছে। ২০২৫-য়ের সেপ্টেম্বরে একদিনে আওয়ামী লীগের ২৪৪জনকে গ্রেফতার করেছিল, যা এ পর্যন্ত সর্বাধিক। এ বাদে বিভিন্ন অভিযানে আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংসদ ভবনের কাছে আওয়ামী লীগ মিছিল করে তদারকি সরকারকে বার্তা দিয়েছিল। বিক্ষোভ সমাবেশের খবর এসেছে তেজগাঁও, রংপুর থেকে। একই ছবি সারা দেশের অন্য শহরে। মানুষ দল বেঁধে সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।
তবে এরা সবাই যে আওয়ামী লীগের সমর্থক, তা কিন্তু নয়। এদের মধ্যে এমন বহু আছেন, যারা বিএনপি বা জামায়েতের কট্টর সমর্থক। কিন্তু এই দুই দলের থেকে তারা যা আশা করেছিল, সেটা তারা পূরণ করতে পারেনি। একরাশ হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সেই ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটেছে। মিছিল থেকে স্লোগান উঠছে আওয়ামী লীগের সরকার, বার বার দরকার।
এখন আচমকা কেন বিএনপি সমর্থকদের একাংশ হাসিনার আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকেছে। তার একটা কারণ রাজাকারেরা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, ইতিহাস মুছে ফেলতে সচেষ্ট হয়েছে, সেটা অনেকেই মেনে নিতে পারছে না। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে আপামর বাংলাদেশবাসীর একটা আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। সেই আবেগে রাজাকারেরা ধাক্কা দিয়েছে, যা মেনে নেওয়া কঠিন।











Discussion about this post