প্রধানমন্ত্রী মোদি প্রথম দফায় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর ঘন ঘন বিদেশ সফর করতেন। এর জন্য নেটপাড়ায় তাঁর নাম হয়ে যায় এনআরআই প্রাইম মিনিষ্টার। বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় অনাবাসী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। যদিও মোদি এবং বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল জণগনের ভোটের মাধ্যমে। সরকার ছিল সংবিধান স্বীকৃত। বাংলাদেশে সরকারের তো সাংবিধানিক স্বীকৃতিই নেই। আবার সেই সরকারের প্রধান ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরে পরেই শুরু করেন বিদেশ সফর। সরকারি নথি ও বাংলাদেশের গণমাধ্যম বলছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১৪ মাসে ১৩ বার বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এবার তিনি যাচ্ছেন ইতালি। ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামে যোগ দেবেন। নিজের দেশের মানুষের খাবার জোগা়ড করতে যিনি ব্যর্থ তিনি যাচ্ছে বিশ্ব খাদ্য সম্মেলনে। ব্যাপারটা কেমন স্ববিরোধী। আর সব জনগণের টাকায়। কত খরচ হয়েছে। অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে শুধুমাত্র নিউ ইয়র্ক সফরে রাজকোষ থেকে খরচ হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০০ কোটি টাকা । তাহলে বাকি সফরগুলির জন্য কত টাকা খরচ হয়েছে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
কোথায় কোথায় ইউনূসের চরণধুলি পড়েছে এই সুযোগে একবার দেখে নেওয়া যাক। যুক্তরাষ্ট্র (দুইবার), আজারবাইজান, মিশর, সুইৎজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, চিন, কাতার, থাইল্যান্ড, ভ্যাটিকান সিটি, জাপান, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া। প্রথম বৈদেশিক যুক্তরাষ্ট্রে, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভার অধিবেশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের যে সব গণমাধ্যম ফলা করে ইউনূসের বিদেশ সফরের খবর প্রকাশ করেছে, তারা লিখেছে এই সব সফর থেকে দেশের অনেক লাভ হয়েছে। কিন্তু খাতায় কলমে দেখা গিয়েছে হাতে পেন্সিলটাও নেই।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:
২০২৪ সালের ২৩-২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে যোগদানের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রথম বিদেশ সফর শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট, বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান এবং এডিবির শীর্ষকর্তার সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
আজারবাইজান
দেশে ফেরে কিছুদিন ছিলেন। নভেম্বরে উপদেষ্টা গিয়েছিলেন আজারবাইজান। রাজধানী বাকুতে ১১ নভেম্বর শুরু হয়েছিল জলবায়ু সংক্রান্ত সম্মেলন। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বৈঠক করেন বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ এরদোয়ান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে।
মিশর
বছর শেষে আবার বিদেশ সফর। এবার মিশর। রাজধানী কায়রোতে বসে ডি-এইট সম্মেলন। ওই সম্মেলনের ফাঁকে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন-য়ের মহাসচিব হুসেইন আল শেখের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। পাশাপাশি সেখাকার আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ভাষণ দেন।
সুইৎজারল্যান্ড
চলতি বছর ডাভোসে বসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলন। শুরু হয় ২১ জানুয়ারি, চলে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বেশ কয়েকজন বিশ্ব নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন।
সংযুক্ত আরব আমির শাহি
পরের মাসে দুবাইতে বসেছিল ওয়াল্ড গভর্নমেন্ট সামিট। সম্মেলন ছিল দুইদিনের। ১৩ এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি। সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আব্দুর রহমান বিন মোহাম্মদ আল ওয়াইস, বাণিজ্যমন্ত্রী থানি বিন আহমেদ আল জেওয়াদি সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর থেকে ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আরও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার অনুরোধ জানান।
চিন
চলতি বছর মার্চে চিনের হাইনান প্রদেশে এবং রাজধানী বেইজিং সফর করেন। হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনে যোগ দেন। বৈঠক করেন চিনের প্রেসিডেন্ট শিয়ের সঙ্গে। দাবি করা হচ্ছে সে দেশের সরকার ও দেশীয় কোম্পানিগুলি থেকে ২১০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পান। ৩০টি কোম্পানি বাংলাদেশে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে অঙ্গীকার করে। বলা হচ্ছে, চিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শুল্ক এবং কোটামুক্ত রপ্তানি সুবিধে আরও দু বছর বহাল রাখবে।
থাইল্যান্ড
বিমস্টেক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন থাইল্যান্ড। সম্মেলন ছিল দুদিনের ৩-৪ এপ্রিল। প্রধানমন্ত্রী সিনাওয়ার্তা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। যদিও মোদির সঙ্গে বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বৈঠক হয়েছে।
কাতার
এপ্রিলেই গিয়েছিলে কাতার (২১-২৫)। রাজধানী দোহায় আর্থনা সম্মেলনে যোগ দেন। কাতারের আমিরের মা তথা কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ মোজা বিনতে নাসেরের সঙ্গে বৈঠক করেন। কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট-য়ের চেয়ারপার্সন শেখ থানি বিন হামাদে বিন খলিফা আল-থানির সঙ্গেও একটি বৈঠক করেন।
ভ্যাটিকান সিটি
পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন ২৬ এপ্রিল । এবার দেশে না ফিরেই। কাতার থেকে সেখানে চলে যান। ক্যাথলিক চার্চের দুই নেতা কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি এবং কার্ডিনাল জ্যাকব কুভাকাডের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জাপান
চলতি বছর টোকিওতে ২৮ মে থেকে ১ জুন ত্রিংশতিতম নিক্কেই ফোরাম ফিউচার অব এশিয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক করেন জাপ প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।
যুক্তরাজ্য
১০ থেকে ১৩ জুন লন্ডনে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে বৈঠক করেন। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। লন্ডনে তিনি পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরতে বিষয়ে সহযোগিতা চান।
প্রধান উপদেষ্টার সফর অত্যন্ত ফলপ্রসু ছিল বলে মন্তব্য করেন তাঁর প্রেস সচিব শফিকূল আলম। তাঁর দাবি, এই সব সফরের মধ্যে দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
একদম ঠিক কথা। এতটাই উচ্চতায় পৌঁছেছে যে তারা এখন চাইছে ইউনূস মানে মানে কেটে পড়ুক। ক্ষমতায় আসুক হাসিনা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post