মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি ছিল, ইরানের পতন অবসম্ভাবি। সেটা ঘটবে দ্রুত। অনেকে নিশ্চিত ছিলেন ইরানের ইসলামি শাসনের অবসান ঘটাবে। যুদ্ধ যত গতি পেয়েছে, তাদের সেই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে গিয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েকে যোগ্য জবাব দিয়ে চলেছে ইরান। শুধু এই দুই দেশকে নয়, যেই সব দেশ তাদের সাহায্য করছে, সেই সব দেশেও হামলা চালিয়েছে ইরান। তারা পাশে পেয়েছে রাশিয়া আর চিনকে। এই দুটি দেশ প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ইরানকে সাহায্য করে চলেছে। ইরানের শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলার আশা নিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে হামলা চালায়। প্রথম হামলাতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। দ্রুত সফলতা পেয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের লক্ষ্য নিয়ে বলতে থাকেন নানা কথা। এর মধ্যে একবার বলেছেন, যুদ্ধ চার বা পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হবে। প্রয়োজনে আরও বেশিদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন।
ইরান পাল্টা হামলার পর সমীকরণ বদলে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব ঘাঁটিতে হামলা চালায় তেহরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার খবর মিলেছে। এছাড়া ইসরাইলেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এ অবস্থায় যুদ্ধ শেষ করার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিগগির ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে। তবে ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুদ্ধের শেষ কবে হবে তা নির্ধারণ করবে তেহরান। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায়ও আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার রিপাবলিকানদের একটি সম্মেলনে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক পদক্ষেপ একটি ছোট অভিযান। কিছু মন্দ লোককে নির্মূল করার জন্য এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল। এই পদক্ষেপ যদিও অর্থনীতিতে ‘সামান্য ধীরগতির’ সৃষ্টি করেছে। তবে দ্রুতগতিতে অর্থনীতির আবার উত্থান ঘটবে। এই যুদ্ধ শিগগির শেষ হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। বাকি লঞ্চারগুলো খুব দ্রুত ধ্বংস করা হবে। মার্কিন সেনাবাহিনী ৪৬টি ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে। এই অভিযান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এর ফলে একটি অনেক নিরাপদ পৃথিবী তৈরি হবে। ইরানে আক্রমণ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর তেহরান ‘এক সপ্তাহের মধ্যে’ হামলা চালাত বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই অনেক দিক দিয়ে জয়ী হয়েছি। কিন্তু এই জয় যথেষ্ট নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ননেতা মুজতবা খামেইনির নিয়োগ মেনে নিতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আবার হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা নিয়েও ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি ইরান এমন কিছু করে যার ফলে হরমুজ প্রণালীতে তেলের সরবরাহ বন্ধ কর দেয় তাহলে তারা এখনও পর্যন্ত যে ধরনের হামলা চালিয়েছে, তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি আঘাত করবে। যদিও প্রেসিডেন্টের এই হুমকি পাত্তাই দিচ্ছে না তেহরান। সে দেশের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি বলেছেন, ইরান আপনার ফাঁকা হুমকিতে ভয় পায় না। ইরানকে এর আগেও নিকেশ করার চেষ্টা হয়েছিল। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ দফাতেও ইরানকে কোনওভাবেই মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা সম্ভব হবে না। এই যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু আত্মরক্ষা করছি। আমরা একটি অবৈধ আগ্রাসনের মোকাবিলা করছি। সে দেশের বিপ্লবী গার্ড কর্পস জানিয়েছে, যুদ্ধ কবে শেষ হবে, সেটা নির্ধারণ করবে তেহরান। বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, অপমানজনক পরাজয়ের পর মিথ্যা সাফল্য দেখানোর চেষ্টা করছে আমেরিকা।












Discussion about this post