বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ। অন্যদিকে সাইপ্রাসে ভারতের যুদ্ধজাহাজ। এদিকে আফগান সীমান্তে টিটিপি। আক্রমণ করেছে পাকিস্তান সেনার উপর। মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। অন্যদিকে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে মায়ানমারে। সেখানে জুন্টা বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে খবর। সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় তপ্ত পরিস্থিতি। এরমধ্যেই খবর এসেছে পাকিস্তান আমেরিকার থেকে কিনতে চলেছে আমরাম মিসাইল। তবে কি গভীর কোনও পরিকল্পনা করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ?
সূত্রের খবর, পাকিস্তান আমেরিকার থেকে আমরাম মিসাইল কিনতে চলেছে। জানা যায়, এই মিসাইল অনেক আগে থেকেই ছিল পাকিস্তানের কাছে। কিন্তু সেটির রেঞ্জ কম। তাই পাকিস্তান সহ সৌদি আরব, জার্মানি, ব্রিটেন এই আমরাম মিসাইলের একটি চুক্তি করে। যার মূল চুক্তির অর্থ প্রায় ২. ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আমেরিকা পেয়ে গিয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় এফ ১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে পাকিস্তানের মাটিতে। যেগুলি সবই আমেরিকার তৈরি। এইবার আমরাম মিসাইল সাপ্লাই করার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে উল্টো দিক থেকে আমেরিকাকে সুযোগ করে দিয়েছে পাকিস্তান। গদর এবং ইরানের চা বাহার পোর্টের মধ্যবর্তী অংশে আমেরিকাকে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে পাকিস্তান। সেখানে থেকে ভারতের উপর নজরদারি চালানো অত্যন্ত সহজ। এমনকি চিন ও আফগানিস্তানের উপরও নজরদারি চালানো সম্ভব। সম্প্রতি আফগানিস্তানের একটি এয়ার বেস আমেরিকা ফেরত চেয়েছিল। তালিবানরা সেটি নাকোচ করে দিয়েছে। আর এই ক্ষোভ থেকে আফগানিস্তানের উপর হামলা চালাতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন একটি পোর্ট। আর সেই পোর্ট খুলে দিচ্ছে পাকিস্তান। এই সমস্ত কিছুর বিনিময়ে একটি সান্ত্বনা পুরস্কার হিসাবে আমরাম মিসাইল দিতে চলেছে আমেরিকা। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
এই মিসাইল আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি। অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মিসাইল। যার জন্য স্বাভাবিকভাবেই ভারতের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তাকে মোকাবিলা করার জন্য ভারতের কাছেও রয়েছে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র। আমরাম ক্ষেপণাস্ত্র একটি বড় রকেট মোটর এবং অপ্টিমাইজ করা ফ্লাইট কন্ট্রোল অ্যালগরিদম থেকে রেঞ্জে তার উন্নতি লাভ করে। স্থল-ভিত্তিক বায়ু প্রতিরক্ষার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি NASAMS লঞ্চারের সঙ্গে মাঝারি-সীমার বায়ু প্রতিরক্ষা বাজারে বর্ধিত বায়ু প্রতিরক্ষা সুরক্ষার জন্য একীভূত।
অন্যদিকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ খানিকটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাংলাদেশের তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি সম্প্রতি সফর। কিছুদিনের মধ্যেই তারা ফেরত যাবে। তবে বিষয়টি খানিকটা উদ্বেগের বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা । কারণ পাকিস্তান বিভিন্ন সময় বলে এসেছে ভারতের পূর্ব সীমান্ত দিয়ে তারা আক্রমণ চালাবে। আর ভারতের পূর্ব সীমান্তে রয়েছে বাংলাদেশ। সেখানেই আবার অবস্থান মার্কিন যুদ্ধজাহাজের। ফলে বিষয়টিকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে তুর্কির নজর সাইপ্রাসের দিকে। উত্তর সাইপ্রাস তারা প্রায় দখল করেই রেখেছে। সেখানকার দক্ষিণাঞ্চল স্বাধীন। কয়েকদিন আগেই সাইপ্রাস সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতেই চিন্তায় পড়ে তুর্কি।
এদিকে হঠাৎই আফগান সীমান্তে টিটিপি আক্রমণ চালিয়েছে। এই আফগান সীমান্ত, খাইবারপানতুনখোয়া.. এই সমস্ত এলাকায় টিটিপি পাকিস্তান সেনার বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সেখানে মাঝেমধ্যেই পাক সেনা আক্রমণ চালায়। কয়েকদিন আগে হামলা চালাতে গিয়ে ৩০ জনের হত্যা হয়েছে। ফের টিটিপির উপর আক্রমণ চালাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি দিনে দিনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশের। এখন দেখার, এই গভীর পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে কি পদক্ষেপ করে চিন, ভারত বা রাশিয়ার মতো দেশগুলি!












Discussion about this post