সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা। দেশের সব সেনানিবাস, নৌঘাঁটি এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটির মসজিদগুলোয় দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধান উপদেষ্টা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফমার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানান।
প্রায় এক বছর পর বঙ্গভবনের বাইরের কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এমন কী এই আমলে এই প্রথম বক্তৃতাও করেছেন তিনি। গত বছরের অগস্টের ৫ তারিখে শেখ হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির পর বিজয় দিবস ও ভাষা শহিদ দিবসে কেবলমাত্র স্মারকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়া বঙ্গভবনের বাইরে আর কোনও অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি তাঁকে।
গত বৃহস্পতিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি, জামায়াতের সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির এবং হেফাজতে ইসলামের মাদ্রাসা ছাত্রদের সমর্থনে সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নিয়েছিল ইনকিলাব মঞ্চে নামে একটি সংগঠন।রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এ দিন বঙ্গভবনের বাইরের যে কর্মসূচিতে যোগ দিলেন, সেটা ছিল সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে পিজিআর-এর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠানটি হয়। তাঁকে অভ্যর্থনা জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ় জামান। অতীতে এমন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ছাড়াও বিশিষ্ট নাগরিকেদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে, গত এক বছরে রাষ্ট্রপতিকে কোথাও বক্তৃতা দিতে দেখা যায়নি। বঙ্গভবনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা-সহ অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পাঠের গতে বাঁধা লিখিত বক্তব্য পাঠ ছাড়া তাঁর কন্ঠ দেশবাসী শোনেনি।
পিজিআরের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অফিসারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ছাড়াও ভাষণও দিয়েছেন সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি পিজিআর সদস্যদের সর্বদা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাও জানান। বিকেলে ৪টায় সেনাকুঞ্জে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ছিলেন প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান, বিচারপতি, সচিব, মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর সাবেক প্রধান, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার, বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবার, স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
এবারের উল্লেখযোগ্য বিষয় সেনাপ্রধানের মেডেল প্রাপ্তি। প্রশ্ন উঠছে, তিনি কি এই পদকের যোগ্যপ্রাপ্যদার? তাঁর সঙ্গে তো তদারকি সরকার প্রধানের সম্পর্ক এখন তলানিতে। তবে কি সেনাবাহিনীকে কাছে টানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ?












Discussion about this post