ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়েছে। চলছে বিচার কাজ। একইসঙ্গে ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত। আদালত আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনায় ক্যান্টনমেন্টের ভিতর প্রবল উত্তেজনা ছড়ায়। শুধু তাই নয়, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান নিজেদের মধ্যে বারবার আলাপ আলোচনা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। একসঙ্গে এতজন সেনা কর্তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ আগে কখনও ওঠেনি। এখন প্রশ্ন, তাদের বিচার কোন আইনে হবে? সেনা আইনে নাকি ফৌজদারি আইনে? যদিও এই প্রশ্নের উত্তরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালে হবে। সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত এই আইনের অধীনে সেনাবাহিনী র্যাাব, পুলিস সহ সবধরনের শৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করার এক্তিয়ার রয়েছে। অর্থাৎ তারা কর্মরত থাকলেও সাধারণ কোনও আইনে নয় বা সেনা আইনে নয়, ট্রাইব্যুনালের আইনেই তাদের বিচার হবে।
তবে সামরিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি ভিন্ন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নাঈম আজতক চৌধুরী বলেন, যদি কোনও সেনা সদস্য সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে অপরাধ করেন, তবে সেটি বিচারযোগ্য। তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে চাইলে সামরিক আদালতে নেওয়া যেতে পারে। এই বিষয়ে মেজর জেনারেল মোঃ হাকিমুজ্জামান বলেন, আন্তজার্তিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই পথে হাঁটবে সেনাবাহিনী।
বাইট- মোঃ হাকিমুজ্জামান, মেজর জেনারেল
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার চলছে। একইসঙ্গে ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থানের আরও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে যেমন বাংলাদেশের কিছু সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তেমনই রয়েছেন পুলিস ও সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তা। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন বিচার কাজ চলছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তাদের ‘মাই ম্যান’ বলে অবিহিত করা হয়েছে। ডিজেএফআইয়ের ৫ জন সাবেক ডিজি, যাদের পদ মর্যাদা লেফটট্যান্ট জেনারেল। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তরফে। একইসঙ্গে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই গ্রেফতারি পরোয়ানা। অনেকে বলছেন, শেখ হাসিনাকে আটকাতে এই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা। যেভাবে শেখ হাসিনার দল সক্রিয় হচ্ছে, তাতে আসলে মুহাম্মদ ইউনূস আতঙ্কে ভুগছেন। এরমধ্যে ভারত সফরে আসা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের। কিন্তু এই ঘটনার পর আদেও সেই সফর হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।












Discussion about this post