বাংলাদেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। যেখানে দেশের জনগণ সব থেকে বেশি ভরসা করে থাকে। সরকারের থেকেও আস্থাভাজন জায়গা হিসাবে মনে করে সেনাবাহিনীকে। কিন্তু তারা কি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে? উঠছে প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই মব কালচার নিয়ে সেনাবাহিনীর তরফে সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছে। ভয়ংকর সিদ্ধান্ত জানানো হল তাদের তরফে। কিন্তু তারপরও কি মব থামানো যাচ্ছে? এর পাশাপাশি নির্বাচন নিয়েও বলা হয়েছে সেনাবাহিনীর তরফে। অনেকে বলছেন, অর্থাৎ সেনাপ্রধান তথা সেনাবাহিনী নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল সাংবাদিক সম্মেলন থেকে।
সেনাবাহিনী ফের একবার মব কালচার নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল। জানিয়ে দেওয়া হল, মব ভায়োলেন্স হলে সেনাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এর পাশাপাশি নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়, নির্বাচন আসলে অবাধ, সুষ্ঠ নির্বাচন করানোর জন্য প্রস্তুত সেনাবাহিনী। মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, মব ভায়োলেন্স এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। এছাড়াও সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে হেনস্তা করার ঘটনায় যে ৬ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাদের একজনকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। তারপরই অবশ্য দেখা যায়, আদালতে জামিন পেয়ে যায়। অনেকে বলছেন, এতে উৎসাহ পেয়েছে মব বাহিনী। জানা যাচ্ছে, কুমাল্লাতে তিন জনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, মব ঠেকাতে যেমন সরকার ব্যর্থ, তেমনই সেনাবাহিনী ব্যর্থ। তথ্য বলছে, গত ৫-৬ মাসে ২০০ এর বেশি মব ভায়োলেন্স হয়েছে।
যদিও সেনাবাহিনীর তরফে এটাও বলা হয়েছে, সর্ব স্তরে গিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। এটার যেমন বাস্তবতা রয়েছে, তেমন পুলিশ এক্ষেত্রে অনেক বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তবে আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে পুলিশের উপরও মব চালানো হচ্ছে। যেটার প্রেক্ষিতে সরকার নিশ্চুপ। সব থেকে ভয়ংকর হলো, সরকারের তরফে বলা হচ্ছে বাংলাদেশে কোনও মব কালচার চলছে না। তাহলে মব ঠেকানোর জন্য কেন উদ্যোগ থাকবে? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নই উঠে আসে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করিডোর বন্দর ইসুতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরকারের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তারপর থেকেই সেনাবাহিনী নিশ্চুপ। তাদের সেই ভাবে সামনের সারিতে দেখা যাচ্ছে না। এমনকি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানও নীরব রয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী হাল না ধরলে, দেশ চলবে কিভাবে? তবে কি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনও চাপ তৈরি হয়েছে? অন্যদিকে নির্বাচন হলে, তারা দায়িত্ব পালন করবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। তবে কি গণতান্ত্রিক কোনো বিষয়ে সেনাবাহিনী নিজস্ব কোনও মতামত থাকবে না? তারা কি সেই জায়গা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে?
এদিকে গত বছর ৫ ই আগস্ট এর পর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার বলেছিলেন, আমার উপর ভরসা রাখুন। সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নিয়েছিলেন। তবে কেন এই পরিস্থিতি? সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলেও, দেশের ও জনগণের স্বার্থে কথা বলা উচিত। আবার কেউ কেউ বলছেন, উল্টোটাও হতে পারে। অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সেটা হয়তো মিটে গিয়েছে সেনা প্রধানের!
তবে ওয়াকিবহন মহলের একাংশ বলছেন, সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না নিয়ে আসতে পারলে, মানুষ পুলিশের মতই ট্রিট করবে সেনাবাহিনীকে। যেটা একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়। তাই একটা সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে, সর্বভৌমত্ব এবং দেশ রক্ষার কাজের জন্য ব্যারাকে ফিরে যাওয়া উচিত সেনা বাহিনীর। যদিও এখন সেনাবাহিনীকে দেশের জনগণের আস্থার জায়গা থেকে, দেশকে বিশৃঙ্খল মুক্ত করতে হবে।












Discussion about this post