একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টার্কিশ এয়ারলাইনসের টিকে-৭১৩ ফ্লাইটে তুরস্ক হয়ে মরক্কো যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কিন্তু ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তাঁর ব্যাগ থেকে বের হয়ে গেল গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন। রবিবার সকালে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদ। এমনকি বাংলাদেশের অন্যতম ছাত্রনেতা তথা গুরুত্বপূর্ণ দফতরের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও এক ফেসবুক পোস্টে স্বীকার করে নেন যে গুলি ভর্তি ম্যাগাজিন ছিল তাঁর ব্যাগে। জানা যাচ্ছে সেটি সম্ভবত একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেলের। যা নিয়ে বাংলাদেশে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। তবে কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে তাঁর ব্যাগে ওই গুলিভর্তি ম্যাগাজিনটি নিয়ে তিনি বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন? তার জবাব পাওয়া যায়নি।
যদিও বাংলাদেশের এই প্রভাবশালী উপদেষ্টা ওই ঘটনার একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবুও প্রশ্ন ওঠে, কেন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করার পরও তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল? আসলে বাংলাদেশ এখন আইন-কানুনের উর্ধ্বে উঠে গিয়েছে। এখানে মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সহযোগীরাই আইন তৈরি করেন নিজেদের মতো করে। আসিফ মাহমুদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে লিখেছেন, প্যাকিং করার সময় অস্ত্র-সহ একটি ম্যাগাজিন বাসায় রেখে এলেও ভুলবশত আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যাগে থেকে যায়। পরে সেটি তিনি তাঁর ব্যক্তিগত প্রটোকল কর্মকর্তার কাছে রেখে আসেন। প্রসঙ্গত, মরক্কোর মারাকেশ শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে’ অংশ নিতে গত রবিবার ভোরে আসিফ মাহমুদ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। সেখানেই তাঁর ব্যাগে ওই ম্যাগাজিনটি পান নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। আসিফ ফেসবুকে ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র আছে। গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপরে যেভাবে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে কয়েক দফা তাতে রাখাটাই স্বাভাবিক। যখন সরকারি প্রটোকল বা সিকিউরিটি থাকে না, তখন নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে লাইসেন্সড অস্ত্র রাখা’। যদিও নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুলছেন, একজন
প্রভাবশালী উপদেষ্টাই যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের কি হাল হতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আগে বুঝতে হবে আসিফ মাহমুদের মন্ত্রণালয় সম্পর্কে। তিনি বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক উপদেষ্টা। বাংলাদেশের এই তিনটি মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি ব্যায় করে। সেটা উন্নয়নমূলক কাজের জন্যই হোক বা কোনও অবকাঠামো তৈরির জন্যই হোক। বিশেষ করে পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রকের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি ব্যয়বরাদ্দ করা হয়। পাশাপাশি সমবায়ের মতো মন্ত্রকও রয়েছে আসিফ মাহমুদের হাতে। এই মন্ত্রক থেকেও প্রচুর টেন্ডার পাস করা হয়। এমনই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন ছাত্র উপদেষ্টা কেন? সেই প্রশ্ন বহু আগেই উঠেছিল। কারণ মুহাম্মদ ইউনূসকে গদিতে এনে বসিয়েছেন এই ছাত্র উপদেষ্টারাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ক্ষমতায় আসার পর তিনি আবার অন্য একটি বিষয়েও অসাধারণ বুৎপত্তি দেখিয়েছেন। সেটা হল গোটা বাংলাদেশের কোথায় কোথায় কোন লাভজনক পদে নিজের লোকজনদের বসানো যায় সেটা আবিস্কার করায়। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদের কথাই বলা যায়। যা নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। আবার সর্বশেষ এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, সরকার ভাবছে সরকারি দফতরগুলিতে পার্টটাইম শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দেওয়া ব্যাপারে। অর্থাৎ যেখানে ফুল টাইম লোকের প্রয়োজন নেই, সেখানে। এই সব নিয়োগের মাধ্যমে আসলে জাতীয় নাগরিক পার্টি আরেকটি মেটিকুলাস ডিজাইনের অবতারণা করতে চাইছে। একদিকে যেমন ছোট, বড়, মাঝারি অসংখ্য টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল দুর্নীতি ও প্রচুর টাকা কামানোর সুযোগ রয়েছে। তেমনই সরকারের অন্দরে নিজেদের লোকজন অর্থাৎ ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বকে সুযোগ করে দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটা বন্দোবস্ত করে নেওয়ার সুযোগ। আর এটা করতে গেলে তো জীবনের ঝুঁকি থাকবেই। সেই কারণেই হয়তো আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখতে হয়। আর তাঁর প্রভাব এতটাই যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতেজ কার্তুজভর্তি রাইফেলের ম্যাগাজিন পাওয়ার পরও তিনি নির্বিঘ্নে বিমানে চেপে বিদেশ পাড়ি দিলেন। বাংলাদেশে কেউ আটকানোর নেই তাঁকে।










Discussion about this post