সময়টা গত বছরের জুলাই-অগাস্ট।
বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে জনতাকে যারা খেপিয়ে তুলেছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম। তাঁরা ইতিমধ্যে স্বপদে ইস্তফা দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার এই দুই ছাত্রনেতার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। আসিফ এবং মাহফুজের ইস্তফা বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষবস্তু হয়ে উঠেছেন। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যাঁরা বলেছিলেন, সরকারের শেষদিন পর্যন্ত তাঁরা থেকে যাবেন, আচমকাই কেন তাঁরা অন্তর্বর্তী সরকার থেকে সরে দাঁড়ালেন? তাহলে কী সরকার প্রধানের সঙ্গে কোনও বিষয়ে তাঁদের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে? এখনও এই নিয়ে কোনও তরফে কিছু বলা হয়নি। তবে এই দুইয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তারা সরকার থেকে সড়ে দাঁড়ালেও সরকারকে কিন্তু অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছেন। তারা কত সম্পত্তির মালিক ছিলেন, আর কত সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তা প্রকাশের দাবি উঠেছে।
পদত্যাগের বিষয়ে আসিফের বক্তব্য, ‘অনেক ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। অনেক কথা বলা যায় না। আসলে এ ধরনের কাজ করতে গেলে অনেক জটিলতা তৈরি হয়। বিগত ২৫ বছরে যা শিখেছি, দায়িত্ব নেওয়ার পরের দেড় বছরে তার চেয়েও বেশি শিখেছি। ’ উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছিল নানা অভিযোগ। সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে আসিফ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। ’ বাংলাদেশের একটি পত্রিকার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই কাগজের প্রথম পাতায় আমার এলাকার একটি প্রকল্প নিয়ে প্রতিবেদ প্রকাশ করা হয়েছে। জানি না কীসের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন। প্রকল্পটি কিন্তু একনেকে পাশ হয়। নিজের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমি দুদককে অনুরোধ করে জানিয়েছি এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য। যখন এ বিষয়ে অভিযোগ আসে, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল, আমি কাউকে কিছু করার সুযোগ দিইনি। সে কারণে দুদককে অধিকতর তদন্তের জন্য অনুরোধ করি। এখন সেটি দুদকের এখতিয়ার। তারা হালনাগাদ তথ্য জানাতে পারবে।’
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন,‘গণ অভ্যুত্থানের পর অনেক সংবাদমাধ্যম বাকস্বাধীনতার অপপ্রয়োগ করেছে। বাক-স্বাধীনতা থাকবে। ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম। তাদের পদত্যাগ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে। তার আগে পর্যন্ত তাঁরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”
আসিফের বাইট
0.0 To 0.32
https://www.youtube.com/watch?v=iO6qHnMd1V8
এদিকে, দুই উপদেষ্টা আসিফ এবং মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছাত্রজনতা’ প্ল্যাটফর্ম। একই দাবি এনসিপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মুনতাসির মাহমুদ। বৃহস্পতিবার রাত নটা নাগাদ তাঁর নেতৃত্বে একটি মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। পরে বাংলামোটরে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে। মুনতাসির পরে বলেন, ‘দুই ছাত্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সরকারে গেলেও তারা কোনও প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারেনি। তাঁরা সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করেছেন। এই দুই ছাত্রনেতা উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে যত নিয়োগ হয়েছে, যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যে সব টেন্ডার দেওয়া হয়েছে, সেগুলোতে কারা কাজ পেয়েছেন, কীসের বিনিময়ে পেয়ছেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। ’
মুনতাসির আরও বলেন, ‘দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করে বলেছেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। এটা সবাই জানে নিয়মবহির্ভুতভাবে আয়ের টাকা কেউ তাদের অ্যাকাউন্টে রাখে না। এই টাকা তাঁরা কোথায় পাচার করেছেন, না কি বিটকয়েনে রেখেছেন, সেট দুদককে তদন্ত করে বের করতে হবে। ’












Discussion about this post