একেই বলে যেমন গুরু তেমন শীর্ষ যেমন কর্ম তেমন ফল। মানে বলছিলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস ও তার ক্রিয়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের কথা। ভারতবিদ্বেষ দেখাতে গিয়ে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও এমন কিছু মিথ্যাচার দেশে-বিদেশে রটিয়ে দিলেন যে নিজের মিথ্যার ঝুলি জনসমক্ষে তো ফাঁস হলোই সাথে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ আজ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে গেল। সত্যিই অবাক লাগে এই ভেবে কোন ভাবনা কোন চিন্তাধারা নিয়ে ইউনুস ও তার উপদেষ্টা মহল বাংলাদেশ চালনার শপথ গ্রহণ করেছিলেন। মিথ্যাচার মিথ্যাচার মিথ্যাচার এটাই কি ছিল ইউনূসের পথ চলার পাথেয়। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে যেটা হওয়ার বাংলাদেশের জন্য সেটাই হতে চলেছে। অর্থাৎ অন্য বস্ত্র বাসস্থান বেঁচে থাকার যে মৌলিক অধিকার তার যেমন ক্ষতি হচ্ছে সাথে ক্রিয়া জগতকে বলা হয় ভদ্রলোকের এবং মানসিক শান্তির জগত সেখানেও ইউনূসের নরপিচাসুর থাবা রক্ষা পেল না বাংলাদেশ ক্রিকেট। ভারতবিদ্বেষ দেখাতে গিয়ে এবং গুরু ইউনুসের কথা রাখতে গিয়ে নিজের প্রচার করা মিথ্যাচার জনসমক্ষে ফাঁস হয়ে গেল আসিফ নজরুলের।
ভারতে খেলতে না আসার যুক্তি হিসেবে ভারতে নিরাপত্তার অভাবকে দায়ী করে উত্তাল হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট রাজনীতি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এ বার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল International Cricket Council অর্থাৎ ক্রিকেট জগতের আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ বোর্ড। আইসিসি স্পষ্ট বক্তব্য-এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন।সম্প্রতি ঢাকায় সাংবাদিক সম্মেলনে আসিফ নজরুল দাবি করেন, আইসিসি নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে-ভারতে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে, এমনকি নির্দিষ্ট জায়গার কথাও নাকি উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর আরও বক্তব্য ছিল, মুস্তাফিজুর রহমান দলে থাকলে নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়তে পারে, এমন ইঙ্গিতও নাকি আইসিসির তরফে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পালটা প্রতিক্রিয়া দিল আইসিসি। আসিফ নজরুলের বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা বক্তব্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন আইসিসি এবং এই বক্তব্যর কোন ভিত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন ক্রিকেটের সর্বোচ্চ বোর্ড।
সংবাদসংস্থা পিটিআইকে আইসিসির এক সূত্র স্পষ্ট জানায়, ভারতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে বিসিবির অর্থাৎ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এর সঙ্গে সাধারণ আলোচনা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আসিফ নজরুল যা বলেছেন তার কোনওটাই সত্য নয়। মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আইসিসি কোনও মন্তব্য করেনি, কোনও নির্দেশও দেয়নি। কার্যত আইসিসির বক্তব্যে হাটে হাড়ি ভেঙে গেল ইউনুসের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ এক অস্থির অন্ধকারের ছায়ায় ডুবে গেল। ইউনুস ও তার উপদেষ্টাদের এতটাই ভারতবিদ্বেষ যে কারণে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে করতে কখন কাকে কি বলছে কি ঘোষণা করছে নিজেদেরই ঠিক থাকছে না।কার্যত এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টার দাবিকে ‘মিথ্যাচার’ বলে খারিজ করে দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের উপদেষ্টা মহল। পদ্মাপারের দেশে নির্বাচন আসন্ন। এই সময়ে ‘ভারত-বিরোধী’ আবহ উস্কে দিলে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে-এই হিসেব নিকেশ করেই নাকি ‘নিরাপত্তা নেই’ তত্ত্ব সামনে আনা হয়েছে। কিন্তু মিথ্যার প্রাচীর যত উঁচু হলেও তা কখনোই সত্যকে ঢাকা দেওয়া যায় না। কাজেই যেটা হওয়ার সেটাই হলো। বিশ্ব মহলের কাছে ইউনূসের উপদেষ্টা মহলের মিথ্যাচার বাংলাদেশের মাথা নত করে দিল। মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়া, ভারতে খেলতে না আসার হুঁশিয়ারি-সব মিলিয়ে ইউনূস মহলের একটি রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
কিন্তু এই কৌশল কি উল্টে নিজেদেরই বিপদ বাড়ালো? কারণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে একবার ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর তকমা লাগলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অভিযোগ বা দাবিকে আইসিসি কতটা গুরুত্ব দেবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকেদের খেলা। সেই ভদ্রলোকের ভদ্র খেলায় যদি ইউনূসের মতন কুচক্রকারিদের ছাওয়া পড়ে তাতে বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে তা দিনের আলোর মতন স্পষ্ট।
আশঙ্কা ছিলই। আর সেটাই সত্যি হল। এনসিপিতে ভাঙন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এখন সেটা স্পষ্ট। এনসিপি থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম...
Read more












Discussion about this post