আসিফ নজরুল, এক রঙ পাল্টানো গিরগিটি। এমনই প্রতিবেদন করেছিল বাংলাদেশেরই এক সংবাদ মাধ্যম। কেন? যিনি মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ছিলেন, এখন তো তাঁর গুরুত্ব আরও বেড়েছে উপদেষ্টামন্ডলীতে। কারণ, আসিফ নজরুল এখন আইন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও উপদেষ্টা। আসিফ মাহমুদের ছেড়ে যাওয়া পদে তাঁকেই বসানো হয়েছে। এই আসিফ নজরুল নাকি মাত্রাতিরিক্ত ভারত-বিরোধী। এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে থেকেও একাধিকবার আইনের ধার ধরেননি। তিনি নিজে আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বহুবার অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছেন। আবার অতিরিক্ত ভারত-বিরোধিতা দেখাতে গিয়ে বাংলাদেশকেই বিপাকে ফেলেছেন। তবুও তাঁর নম্বর উপদেষ্টা মন্ডলীতে উপরের সারিতেই রয়েছে। কারণ ভারত বিরোধিতা করতে তিনি সিদ্ধহস্ত। অথচ এই আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও ভারতের এজেন্ট হওয়ার অভিযোগ আছে। বিষয়টি খুবই জটিল, আসিফ নজরুল কি সত্যিই ভারতের এজেন্ট, নাকি তিনি বাংলাদেশের যুবসমাজে নিজের ছাপ রেখে যেতে চান,?
রঙ বদলানোর ভালো-মন্দ দুটি দিকই আছে, কেউ বদলায় অস্তিত্বের প্রয়োজনে আবার কেউ স্বার্থের কারণে। গিরগিটি রঙ বদলায় বিপদ সংকেতে, এটাই জাগতিক নিয়ম। আসিফ নজরুল, যিনি বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা, যিনি জামাতিদের এখন সবচাইতে প্রিয় ব্যাক্তি। যিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ছিলেন। এবং ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইবুনাল শুরু হবার পর থেকে জামায়তে ইসলামী এবং বিএনপি জোটের হয়ে কথা বলতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে অপঃপ্রচার চালাতে শুরু করেন। এবাং এই সব অপঃপ্রচারের একজন প্রধান দেশীয় মুখপাত্র হয়ে ওঠেন আসিফ নজরুন। আজও তিনি এই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবুও আসিফ নজরুলকে আনেকে ভারতের দালাল বলে অভিহিত করেছেন। কেন এমন দাবি?
আসিফ নজরুল, যিনি বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা। তাঁকে নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশে। কেন উঠেছে তার বহু প্রমান আছে। প্রথমত, আসিফ নজরুলের বহু বয়ান ভারতকে সাহায্য করেছে। তিনিই যেন মাত্রাতিরিক্ত ভারত-বিরোধিতার তাস খেলেছেন বিগত ১৫ মাসে। অথচ তিনিই ঘোষণা করছেন, ১৫ বছর ধরে বলা হয়েছে আমি পাকিস্তানের দালাল, এখন রাতারাতি হয়ে গেছি ভারতের দালাল।
এবার ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে। নেপথ্যে সে দেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইসিসির অনুরোধ সত্ত্বেও টি–টয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে না যাওয়ার অবস্থান থেকে সরে আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। নিরাপত্তাশঙ্কায় ভারতে গিয়ে না খেলার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসিকে আবারও জানিয়ে দিয়েছে সে দেশের বোর্ড। আর এর নেপথ্যে ত্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেটা বালার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের বাইরে অন্য কোনো দেশে আয়োজনের জন্য আইসিসিকে আবার অনুরোধ করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। আর এতে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তানও। এখানেই রজনৈতিক যোগাযাগ সামনে আসছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড যতই ভারতে খেলতে আসতে না চাক নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে, প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। সেটা হল, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন আইসিসির এলিট প্যানেলের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। তিনি বহাল তবিয়তে ভারতে রয়েছেন। এই ম্যাচে সৈকতের উপস্থিতি আলোচনায় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বিসিবি ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ’-এর কথা উল্লেখ করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেয়ার জন্য আইসিসির কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এখানেই প্র্শ্ন উঠছে, ভারতে খেলতে আসা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার উদ্বেগ থাকে, তাহলে এক বাংলাদেশি আম্পায়ার কিভাবে নিশ্চিতভাবে আম্পারিয়ারিং করছেন? আসিফ নজরুলের বক্তব্য নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে। তিনি কি আদৌ ভারতের দালাল, নাকি নেপথ্যে অন্য কোনও বিষয়।
।।












Discussion about this post