সম্প্রতি বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করল মার্কিন যুত্চরাষ্ট্র। আর সেই তালিকায় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রয়েছে, নেই ভারতের নাম। কেন মার্কিন প্রশাসনের এই দ্বিচারিতা? যা নিয়ে তোলপার হচ্ছে ঢাকা-ইসলামাবাদ। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান এই দুটি দেশই এখন এক জায়গায় রয়েছে, যারা ভারত-বিরোধিতায় একাত্ম। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বলে খবর। যা নিয়ে উচ্ছ্বশিত ছিল পাক-বাংলাদেশ। কিন্তু তাঁদের কাছে এল উল্টো খবর। সোমবার ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে আমেরিকা, তার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশও। বুধবার মার্কিন বিদেশ দফতর জানিয়েছে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, হাসিনা পরবর্তী সময়ে কট্টরপন্থীদের উত্থান, সেই সঙ্গে সে দেশের অরাজক পরিস্থিতি বাংলাদেশিদের মার্কিন মুলুকে বাংলাদেশিদের মার্কুন মুলূকে প্রবেশাধিকারে বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। একই সঙ্গে পাকিস্তানের অন্তর্দ্বন্দ্ব এর জন্য দায়ী।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, অভিবাসী ভিসা সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গত নভেম্বর মাসে জারি হওয়া একটি নির্দেশিকার ভিত্তিতে। যেখানে বলা হয়েছিল, যাঁদের আমেরিকায় গিয়ে সরকারি ভাতা বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের উপর নির্ভর করার আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই নীতির আওতায় আপাতত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দেশ। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই নতুন নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে এই ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রদান। তালিকায় ব্রাজিল, ইরাক, ইরান, জর্ডন, কুয়েত রাশিয়ার মতো দেশও রয়েছে। তেমনই ভারতের প্রতিবেশি নেপাল ভুটানও রয়েছে। অর্থাৎ, ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল ও ভুটানের নাগরিকরা আপাতত মার্কিন ভিসা পাবেন না। এমনকি ভিসা বন্ড দিয়েও না। কিন্তু ভারতীয়দের জন্য এই নিয়মে ছাড় রয়েছে। এটা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হতে চলেছে। যা নিয়ে ওই দুই দেশেই শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, যে সব দেশ থেকে নাগরিকরা আমেরিকায় এসে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিতে পারে, সেই সমস্ত দেশের নামই তালিকায় রাখা হয়েছে। তাহলে পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো দেশের লোকজন মার্কিন মূলুকে গিয়ে সে দেশে লুকিয়ে বসবাস করার প্রবনতা রয়েছে, এটাই বলতে চেয়েছেন মার্তিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর স্পষ্ট অভিযো, সরকারি সাহায্যের ভরসায় যারা থাকবেন, এমন ব্যক্তিদের আমেরিকায় ঢোকা আটকাতেই ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান মার্কিন সফর সেরে ফেরার পরই কেন এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে তাঁর ওয়াশিংটন সফরকালে বাংলাদেশি মিডিয়া দাবি করেছিল, ভিসা বন্ড নিয়ে সদর্থক আলোচনা করেছেন খলিলুর রহামান। তাহলে খলিলুর কি ব্যর্থ হলেন ওয়াশিংটনকে বোঝাতে? তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, আদতেই এটা মুহাম্মদ ইউনূসের পররাষ্ট্রনীতির লাগাতার ব্যর্থতার আরও একটা উদাহরণ। সেই কারণেই খলিলুর রহমানের মার্কিন সফরের দুই দিন পরে এরকম বড় ধাক্কা এল ঢাকায়। এর অর্থা হল, আর সাড়ে আঠারো লক্ষ বাংলাদেশি টাকা দিয়েও কেউ মার্কিন মূলুকে যেতে পারবেন না। কারণ তাঁরা আর ভিসা পাওয়ার অধিকারি নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের আরেক বন্ধু পাকিস্তানও একই ধাক্কা পেল। এখন শাহবাজ শরীফ আর মুহাম্মদ ইউনূস কোথায় মুখ দেখাবেন? কারণ যে ভারতকে তাঁরা লাগাতার আক্রমণ করে আসছেন, সেই ভারতের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনও ভিসা নিয়ম লাগু করেনি। ৭৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাম।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post