অনেক দিন ধরে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও খুব একটা সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং শেখ হাসিনা ভারতে বসে নির্বাচন প্রতিরোধের একটা ডাক দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ দু পৃষ্ঠার বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিল নো বোট, নো ভোট। অনেকে বলছেন, তবে কি আওয়ামী লীগ বড় কোনও প্ল্যান করছে? অন্তত তাদের নিস্তব্ধতা সেটাই প্রমাণ করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা কি বাড়াতে পারে তারা? এই আলোচনাও চলছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে আলোচিত হচ্ছে, বহু শীর্ষ নেতাকে মাইনাস করে ফেলা হয়েছে। এদেরকে বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগ নতুন করে পুনঃগঠিত হতে পারে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ হাসিনাই। কিন্তু প্রশ্ন হলে এর কারণটা ঠিক কি?
বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আশছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। এদিকে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা নিশ্চুপ রয়েছেন বেশ কয়েকদিন ধরে। বিভিন্ন সূত্র বলছে, শীর্ষ স্থানীয় নেতা বা মন্ত্রী, সাংসদ পর্যায়ের নেতৃত্ব অনেকে নেই। যারা ছিলেন, তাদের কারণে দলের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যারা ৩০০ আসনে এমপি ছিলেন, নেতৃত্বে দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ। এমনকি আওয়ামী লীগের ভিতরে আলোচনা রয়েছে, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে এমপি, মন্ত্রী হয়েছেন, তারা তাদের বেশিরভাগই দলটাকে বিতর্কিত করেছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের ভিতরেই আর একটি আওয়ামী লীগ গড়ে তুলেছিল তারা। যে কারণে বিভিন্ন দল থেকে লোকজনকে এনে তাদের পরিধি বড় করেছেন। আর সেই বলয়ে যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ, শুরু থেকে রয়েছেন, তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এরমধ্যে লক্ষ্যনীয় বিষয়, চুপ রয়েছে আওয়ামী লীগ। অনেকে বলছেন, চুপ থাকার ইঙ্গিত হল, তারা বড় কিছু পরিকল্পনা করছে। কারণ শেখ হাসিনার বিবৃতি, বলা ভালো আওয়ামী লীগের একটি বিবৃতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। যেখানে তারা নির্বাচন বর্জন করতে চায়। তাহলে কি এখন সেটারই প্রস্তুতি নিচ্ছে? আওয়ামী লীগ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে আড়াই শতাধিক শীর্ষ নেতাকে সরিয়ে দিয়েছে। এমনকি এই খবর আসছে, যেখানে আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের মাইনাস করে পুনর্গঠিত হবে নতুন আওয়ামী লীগ। এমনকি এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। একাধিক জায়গায় নাকি আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। সেটা বিশ্ব বিদ্যালয়ে, ইউনিয়ন পর্যায়ে….বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এই বিষয়টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এখান থেকে অনেকেই বলছেন, পরবর্তীকালে শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব ভার জয়ের উপরই ছাড়বেন। জয়ই আগামী দল পরিচালনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব নেবেন, সেটা স্পষ্ট হচ্ছে। অনেকে আবার বলছেন, যে ভুল গুলো আওয়ামী লীগ করেছে, সেগুলি সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরে কি ক্ষমা চাইবে দল? ঠিক যেমনটা করেছিলেন, নেলসন ম্যান্ডেলা। নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখা গিয়েছিল, ট্রুথ এন্ড রিকনসলিয়েশন কমিশন। যে কমিশনের মাধ্যমে সবাইকে সাধারণ ক্ষমার মধ্যে এনে একটা ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করে নেলসেল ম্যান্ডেলা পৃথিবীতে একটি অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছিলেন। অনেকে বলেছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চাইলে তিনি সেই পথে হাঁটতে পারতেন। কিন্তু সেই পথে তিনি হাঁটেননি। হিংসা, বিদ্বেষ তৈরি হয়েছে দেশে। তবে এখও আওয়ামী লীগ কি করে, সেটাই দেখার। কারণ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে আদেও তিনি দেশে ফিরতে পারবেন কিনা, সেটাই দেখার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post