গায়ে মানে না আপনি মোড়ল। গত মাস থেকে ভারত-পাক সংঘর্ষ থামানোর কৃতিত্ব অন্তব্য ২২ বার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ভারত সরকারের তরফে এটা নিয়ে কোনও দাবি নেই। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, কিংবা ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি বারবার ট্রাম্পের সেই দাবি নস্যাৎ করেছেন। কিন্তু কোনও মতেই থামানো যাচ্ছে না ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তিনি তাঁর জায়গায় স্থির। এবার জানা যাচ্ছে ট্রাম্প আগামী সেপ্টেম্বরে ইসলামাবাদ সফরে আসছেন। পাকিস্তানের দুটি সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই দাবি করছে। যদিও পাকিস্তান বা আমেরিকা, সরকারিভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সফরের বিষয়ে কোনও ঘোষণা এখনও পর্যন্ত করেনি। এরমধ্যেই ফের বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হতে পারে ভারতের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক মহলের গুঞ্জন, ফের পাকিস্তানের রাশ ধরবে সেনা! প্রেসিডেন্ট পদে বসতে পারেন পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। যিনি ভারতের সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধে হারার পর নিজেকে ফিল্ড মার্শাল ঘোষণা করেছেন।
একটা কথা স্পষ্ট, পাকিস্তান আছে পাকিস্তানেই। সম্প্রতি পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ও প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারির মধ্যে একটি বৈঠক হয়েছে। তারপরই পাকিস্তানে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিগত পাক সেনাপ্রধানের পথ ধরেই এবার জেনারেল আসিম মুনির পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে বসতে পারেন বলেই খবর। যদিও এই জল্পনা নতুন নয়, বিগত দুই মাসের মধ্যে এই নিয়ে তৃতীয়বার এই গুঞ্জন শোনা গেল পাকিস্তানে। জানা যাচ্ছে, গত মঙ্গলবার শরিফের বাসভবনে ফের যেতে দেখা যায় পাক সেনাপ্রধানকে। তিনি পাক প্রথানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন। এর পরই জানা যায়, এবার জারদারি প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন পাক সেনাপ্রধান। এবার পাকিস্তানের সংবিধানের ২৭তম সংশোধন শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। তারপরেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারিকে সরিয়ে তাঁর কুর্সি দখল করতে চলেছেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এই গুঞ্জন কিন্তু কিছুতেই থামছে না।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য এই গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিতে নারাজ। কারণ, এই ধরণের ঘটনা পাকিস্তানে বহুবার ঘটেছে। শেষ উদারহণ অবশ্যই পারভেজ মুশারফ। তিনিও সেনাপ্রধানের পদ থেকে পাক প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। এবার আসিম মুনিরের পালা হতেই পারে। কিন্তু গত এপ্রিল মাসের ২২ তারিখে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার আগে জেনারেল আসিম মুনিরের উস্কানিমূলক বক্তৃতা এবং সরাসরি চ্যালেঞ্জের পরও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন করে চলেছে সেটা ওয়াকিবহাল মহলকে আশ্চর্ষ করে চলেছে। এবারও জানা যাচ্ছে, প্রায় দুই দশক পর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসলামাবাদ সফর করবেন। এর আগে ২০০৬ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। এবার আসতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যিনি আবার বারবার দাবি করছেন পাকিস্তান খুবই সুন্দর একটি রাষ্ট্র। তিনি গত মাসে পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানিয়ে হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ করিয়েছেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, বারবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যের কথা বলে দাবি করে যাচ্ছেন তিনিই নাকি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়েছিলেন। যদিও মজার বিষয় হল, ভারত এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য চুক্তি সাক্ষর করেনি। তবে ভারতীয় সময় বৃহস্পতিবার ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের বড়সড় ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ভারতের বাজারে আরও বেশি করে নাগাল পেতে চলেছে আমেরিকা। কয়েকদিন আগে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এই মর্মে আমেরিকার চুক্তি হয়েছে। ভারতও সেইভাবেই চুক্তি করতে চলেছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ভাবে রোজ মিথ্যা কথা বলছেন, তাতে ভারত নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও বাণিজ্য চুক্তি করবে বলে মনে হয় না। সেই কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে সামনে রেখে ভারতকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি কি সেটা মানবেন? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।











Discussion about this post