ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা চলছে। এই মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে তাঁর ৬৯টি ফোনকল রেকর্ড ও অডিও ক্লিপ হাজির করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের চীফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, “আমাদের হাতে যা কল রেকর্ড আছে, তাতে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করতে যথেষ্ট”। অন্যদিক আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ার যাবতীয় প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু এত কিছু করেও আওয়ামী লীগ ও তাঁদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে দমানো যাচ্ছে না। যত দিন যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ ততই বাংলাদেশের মাটিতে নতুন উদ্যোমে শক্তিবৃদ্ধি করছে। যা মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এবার হাসিনার সংগঠন বৃদ্ধি ঠেকাতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আরও একটা অদ্ভুত পদক্ষেপ নিতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দুটি মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম ও বোটিম বাংলাদেশে বন্ধ করে দেওয়ার ছক কষছে ইউনূস সরকার। জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গত রবিবার অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে এই দুটি অ্যাপ বন্ধের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, ওই বৈঠকে আলোচনা হয় যে এই দুই অ্যাপ ব্যবহার করে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলের নেতা–কর্মীরা। ঝটিকা মিছিলগুলি থেকে গ্রেফতার হওয়া নেতা,কর্মীদের মোবাইল যাচাই করে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলেই দাবি পুলিশের। প্রশ্ন উঠঠে, ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগের কোনো অ্যাপ কি বন্ধ করা সম্ভব? সেটা কি কোনও কার্যকর পন্থা? কারণ ওই অ্যাপগুলো যে শুধু আওয়ামী লীগের কর্মীরাই ব্যবহার করেন তা নয়, বরং বাংলাদেশের আরও অনেক সাধারণ মানুষও ব্যবহার করেন। পাশাপাশি সামান্য এই কারণেই দুটি অ্যাপ বন্ধ করে দিলে আইনগত সমস্যাতেও পড়তে হতে পারে বাংলাদেশকে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বেই লক্ষ লক্ষ অ্যাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। মেটার বহুল জনপ্রিয় ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ যেমন আছে, তেমনই দেশ ও অঞ্চল ভিত্তিতে জনপ্রিয় বিভিন্ন অ্যাপ মোবাইলের অ্যাপস্টোরে রয়েছে। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে অল্প কিছু মানুষ মিলে নিজেরা অ্যাপ তৈরি করেও ব্যবহার করেন। ওয়েবসাইট অ্যাপ ব্যবসা সম্পর্কে নানা তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়. বিশ্বে যোগাযোগ অ্যাপের সংখ্যা লাখ লাখ। ২০২৪ সালে অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০০ কোটির কাছাকাছি। সেখানে হাসিনা আতঙ্কে ভোগা ইউনূস সরকার হাস্যকরভাবে দুটি অ্যাপ বন্ধ করার পায়তাঁরা কষছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, একটি দুটি বন্ধ করে লাভ কি, এরকম আরও শত শত অ্যাপ তো আছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, আসলে মুহাম্মদ ইউনূস হাজার চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগকে আটকাতে পারছে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে বসে অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে থাকা আওয়ামী নেতা-কর্মীদের একত্রিত করে ফেলছেন। তাঁর নির্দেশে গ্রামীণ এলাকা তো বটেই শহরাঞ্চলগুলি থেকেও এখন হাজার হাজার কর্মী ঢাকায় চলে আসছেন নির্দিষ্ট ঝটিকা মিছিলে যোগ দিতে। ফলে দুটি অ্যাপ বন্ধ করার হাস্যকর ভাবনাচিন্তা করে ইউনূস সরকার কি পারবেন হাসিনাকে ঠেকাতে?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post