রাজনীতির ২২ গজে দুই শেয়ানা মুখোমুখি হলে খেলা বেশ জমে ওঠে। বিশ্ব আরও একবার তার সাক্ষী রইল।
বাংলাদেশের তদারকি সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বাহিনীর বেশ কয়েকজ প্রাক্তন এবং কর্মরত সেনাসদস্যে বিরুদ্ধে সে দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছে। এবার ইউনূস সহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক অপরাধে পালটা মামলা দায়ের করল আওয়ামী লীগ। মামলা দায়ের হয় গত ৮ নভেম্বর। এই মামলায় নাম রয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জড়িত কয়েকজনের। মামলায় নাম রয়েছে ইউনূস সরকারের আইনি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী, তাঁর পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা চৌধুরী হাসান, তদারকি সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মামুদ সজীব ভুঁইয়ার। নাম রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ মোহাম্মদ হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদ, হাসি আল ইসলাম, আবু বাকের মজুমদারের নাম।
মামলা দায়ের করেছেন সিলেটের প্রাক্তন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। অভিযোগপত্র ৮০০ পৃষ্ঠার। যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাটফোর্ডের কালাম হাউজের ল ভ্যালি সলিসিটরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই মামলার খবর দিয়েছেন ব্যারিস্টার ও সলিসিটর নিঝুম মজুমদার এবং ব্যারিস্টার মনিরুল ইসলাম মঞ্জু। তাঁরা ছাড়াও ছিলেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও গভ ওয়াইজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস শাকির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তাদের তরফ থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা ইউনূস সরকার গত ৫ অগাস্ট থেকে ৮ অগাস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী থেকে শুরু করে বাংলাদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সহ পুলিশের ওপর নির্মম গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটিত করে। ’ তাঁর এই বিবৃতির ভিডিও দলের ফেসবুক পেজেও আপলোড করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইউনূস সরকারের অত্যাচার, নিপীড়নের শিকার যাঁরা, তারাও এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
দিল্লির একটি মানবাধিকার সংগঠন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউনূস এবং তাঁর পারিষদদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের করবে। মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাইটস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালিসিস গ্রুপ। সংগঠন একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে, যার শিরোনাম ‘বাংলাদেশ : অর্গানাইজড মার্ডার ফর মেম্বারশিপ টু দ্য আওয়ামী লীগ অ্যান্ড ইটস অ্যাফিলিয়েশন ’ সংস্থার ডিরেক্টর সুহাস চাকমা জানিয়েছেন হাসিনা-পরবর্তী অধ্যায়ে বেছে বেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের খুন করেছে।
তবে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলার জন্য আওয়ামী লীগের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি লবিস্ট ফার্মকে টাকা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সেই গণমাধ্যম তিনটি ফার্মের নামও উল্লেখ করেছে। একটি প্যালেটাই কমিউনিকেশন। বাকি দুটি হল স্ট্রাইক গ্লোবাল ডিপ্লোমেসি এবং ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স। বলা হচ্ছে ইউনূস সরকারের থেকে তারা কিছু পাওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু তাদের সে আশা পূরণে ইউনূস চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ায় এবার তারা ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এই আদালত কী রায় দেয়, সে দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post