বাংলাদেশের ঐক্যমত কমিশনকে অনৈক্যমত কমিশন বলেছে বিএনপি। তাদের কার্যক্রম এবং প্রথান উপদেষ্টার কার্যক্রমকে প্রতরণা বলেছে খালেদা জিয়ার দল। এই পরিস্থিতিতে সরকার মনে করছে, নির্বাচন বানচাল হতে পারে। যে কোনও মুহূর্তে আক্রমণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যেটা প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলছেন। হঠাৎ করেই সরকারের মধ্যে এমন আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে কেন? কারা আক্রমণ চালাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে? তবে কি প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিলেন? নাকি ইঙ্গিত ভারত বা আওয়ামী লীগের দিকে? কিসের আতঙ্ক গ্রাস করছে প্রধান উপদেষ্টাকে? এমন নানা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে যমুনায় প্রথম সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে সভার আলোচ্য বিষয়গুলো জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নাকি একটি মারাত্মক মন্তব্য করেছেন। যে কোনও মুহূর্তে আক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এবং নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন তিনি। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, নির্বাচন বানচালের জন্য দেশের বাইরে ও ভিতর থেকে অনেক শক্তি কাজ করবে। হঠাৎ আক্রমণ চলে আসতে পারে। নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি শক্তি বলতে যে ভারতের দিকে তীর যাচ্ছে, এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ এই ১৪ মাসে একটি ধারণা পাওয়া গিয়েছে। বাংলাদেশে যা কিছু ঘটেছে, সবটাই ভারতের ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ কেউ এখনও পর্যন্ত একটা ঘটনাও প্রমাণ করতে পারেনি। আবার কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের দিকেও ইঙ্গিত করতে পারেন তারা। যদি এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ হয়ে থাকে, তবে তাদের লাভ কতটুকু? এই প্রশ্নও উঠছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, অনেকে দেশের ভিতর বসে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। সেটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেই বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন তিনি। তিনি বলেন, প্রকৃত স্বৈরাচাররা চায়বে না, দেশে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হোক। আমাদের লক্ষ্য একটাই, দেশে সুষ্ঠ নির্বাচন করা। বৈঠকে বিষয়বস্তু জানিয়ে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে তিনটি নির্বাচনে যাদের নূন্যতম সংশ্লিষ্টতা ছিল, তারা নির্বাচনে কোনও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এরইমধ্যে বিএনপির তরফ থেকে আপত্তি এসেছে, ইসলামি ব্যাঙ্কের কোনও কর্মকর্তাকে যেন নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া না হয়। এটা জামাতের প্রতিষ্টা বলার চেষ্টা করেছে। এমনকি জামাতের তরফ থেকে প্রতিবাদ জানান হয়েছে। সেটার প্রতিবাদ যখন জানান হয়েছে, তখন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সাহের একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ইসলামিক ব্যাঙ্কের কর্মকর্তারা জামাতের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছে। অনেকে বলছে, সেই কারণেই বিএপি তাদের জামাতের প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, নির্বাচনে ৯২ হাজার ৫০০ নৌ, সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীর তরফ থেকে এটা জানানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে ৭২ ঘন্টা এবং পরের পরিস্থিতি কিভাবে আয়ত্তে আনা যায়, স্থিতিশীল রাখা যায়, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে শফিকুল আলম বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকম ভিডিও আসবে। এআই দিয়ে ভিডিও বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হবে। কিন্তু তাতে সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে যাতে প্রভাব না ফেলে, সেটার চেষ্টা করতে হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারা নির্বাচন বানচাল করতে পারে, সেটা পরিস্কার করে বলা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি কারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে, তার কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। যদি সেই আঁচ সরকার সরকার পেয়েও থাকে, তবে সেটা সাধারণ মানুষের মধ্যে না ছড়িয়ে পরিস্থিতি নীরবে সামাল দেওয়ায় সরকারের কাজ বলে অনেকে বলছেন। কিন্তু সেটা না করে নানা মন্তব্যে আরও পরিস্থিতি জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post