ফের তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কা্রিজে লিপ্ত থাকার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পত্রিকার তরফ থেকে তাঁকে ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে হাসিনা বলেন, প্রত্যেক মৃত্যুই দুঃখের। ওই আন্দোলনে অনেকে তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। মা তাঁর সন্তানকে হারিয়েছে। এই মৃত্যু কোনওভাবে মেনে নেওয়া যায় না। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে গুলি চালানোর নির্দেশের অভিযোগ ঠিক নয়। পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘একজন নেতা হিসেবে এই ঘটনার দায় কোনওভাবে অস্বীকার করতে পারি না। তবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে আমি নাকি আন্দোলনরত জনতাদের থামাতে গুলি চালানোর নির্দেশ দিই। এই অভিযোগ কোনওভাবেই সত্য নয়। ’ হাসিনা এও বলেন, গুলি চালানোর প্রথম মৃত্যুর খবর তাঁর সরকার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পদক্ষেপ করে। কিন্তু ক্ষমতায় পালাবদল হতেই সেই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেওয়া হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর বাবু রাম পান্ত জানিয়েছেন, ‘মৃত্যুর সংখ্যা যে ভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে তাতে এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রশাসন এই আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিবাদে অত্যাচার, নিপীড়ন চালিয়েছে। ’
বাংলাদেশ পুলিশ একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। তাদের প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত ১৫ মাসে তিন হাজারের বেশি খুনের ঘটনা ঘটেছে। চার হাজারের বেশি মহিলা ধর্ষিতা হয়েছেন। এই তিন হাজার মৃত্যুর মধ্যে অধিকাংশ যে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী তা বলাই বাহুল্য। বাংলাদেশ পুলিশ আরও একটি তথ্য প্রকাশ করেছে। সেই তথ্য বলছে গত বছর ৫ অগাস্ট থেকে চলতি বছর ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ও তাদের অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১২৩জন সদস্যকে খুন করা হয়েছে। যদিও হাসিনার পালটা দাবি, তাদের দলের কম করেও দুই হাজার কর্মীকে খুন করা হয়েছে। এই তথ্য থেকে পরিষ্কার যে ইউনূসের আমলে আওয়ামী লীগ করা মানে অপরাধ। ইউনূস কিন্তু এই সব হত্যাকাণ্ড থেকে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। প্রশ্ন উঠছে, এটা কি ইউনূসের নতুন চাল। ঘটনা হল ইউনূস ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর বহু আওয়ামী লীগ কর্মীকে খুন করা হয়েছে।
তাহলে কি তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করছে হয় জামায়াত না হলে বিএনপি? এই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, হাসিনা আমালে এই দুটি দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। আর ইউনূস ক্ষমতায় এসে প্রথমেই সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেন। হাসিনার ইস্তফা এবং ইউনূসের ক্ষমতা দখলের পর বাংলাদেশে ঘটে গিয়েছে একধিক হিংসাত্মক ঘটনা। কিন্তু ইউনূস পুরোপুরি চুপ ছিলেন। তাতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই সব ঘটনার পিছনে তদারকি সরকার প্রধানের মদত ছিল। তিনি চেয়েছিলেন হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের পর প্রতিশোধ নিতে। সেটা স্পষ্ট হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায়। তিনি চুপচাপ বসে ছিলেন। প্রতিক্রিয়া দেওয়া তো পরের কথা। আর তার পর থেকে তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসিনা ফিরলে তাদের দাপাদাপি যে বন্ধ হবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।












Discussion about this post