আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতি শুধু পাকিস্তান আর চীনকেই হতাশ করেনি, আমেরিকাকেও জোর ধাক্কা দিয়েছে। আফগানিস্তানের যে বাগরাম এয়ারবেসে এক সময় আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজ উড়ত, সেই বাগরাম এয়ারবেস এখন ভারতের সৈন্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে। কয়েক দশক ধরে আমেরিকা আফগানিস্তানে যুদ্ধ চালিয়ে গেছে, গনতন্ত্রের নামে আফগানিস্তানকে ধ্বংস করেছে। শুধুমাত্র আফগানিস্তানের মাটির নিচে থাকা খনিজ সম্পদ দখল করার জন্য। এই লক্ষ্যে তারা জলের মত নিজেদের সৈন্য এবং অর্থ নষ্ট করেছে। সেই আফগানিস্তান এখন ভারতের ইশারাতে চলছে। তাই আমেরিকা বিভিন্ন ভাবে ভারতকে হুমকি দিচ্ছে বাগরাম এয়ারবেস খালি করার জন্য। কিন্তু ভারত আমেরিকার এই দাবাবকে পাত্তা না দিয়ে কখনও কঠোর এবং কখনও নরম উপেক্ষার মাধ্যমে জবাব দিয়ে চলেছে। আমেরিকা ২০২১সালে আফগানিস্তানের বাগরাম এয়ারবেস ছাড়ার সময় তাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল, তারা ভেবেছিল এই এয়ার বেস আর কখনও ঠিক করা সম্ভব নয়। কিন্তু ভারত মাত্র কিছু দিনের মধ্যে সেই এয়ারবেস আগের তুলনায় অনেক শক্তিশালী এবং উন্নত মানের তৈরী করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে পরিস্কার দেখা যাচ্ছে বাগরাম আর এখন শুধু মাত্র একটি এয়ারবেস নয়, দক্ষিন এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সৈন্য ঠিকানা। যে কারণে গোটা দুনিয়া এখন ভারত আফগান সম্পর্কের চর্চা শুরু করে দিয়েছে। যে দেশটিকে এক সময় সব দেশ মিলে গোটা পৃথিবী থেকে আলাদা করে দিয়েছিল, ভারতের গঠন মূলক বন্ধুত্ব্য সেই দেশকে অগ্রগতির আলো দেখাচ্ছে। ফলে আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না আমেরিাক। তারা এখন ভারতকে যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে। ভারতকে ভয় দেখাতে আমেরিকার ফাইটার জেটকে বাগরামের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সেই সঙ্গে বাগরাম এয়ারবেস খালি এবং আফগানকে কোন রকম সাহায্য না করার হুমকি দিচ্ছে। আমেরিকার কথা না শুনলে আবারও টেরিফ বাড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। ভারতও আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছে ভারত নিজের দেশ এবং দেশের সুরক্ষায় যে কোন পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। ভারতের পিছনে যে রাশিয়া আছে সেটা বোঝাতে পুতিন ঘোষনা করে দিয়েছে যে ভারতের স্বার্থে আঘাত হানে এমন কোন সিদ্ধান্ত আমেরিকা নিয়ে তাকে রাশিয়ার মোকাবিলা করতে হবে। যে কারণে হয়তো বাগরাম এয়ারবেসে রাশিয়ার সব থেকে উন্নত যুদ্ব বিমানও দেখা যেতে পারে। বাগরাম এয়ারবেসকে সুরক্ষা দিতে,বাগরাম এয়ারবেসে এস ফোরহানড্রেড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যে কোন আক্রমনকে প্রতিহত করার সব রকম সমর সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখে দিয়েছে ভারত। তাই আমেরিকার ফাইটার জেট ভারতের রেডারে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভারত কড়া হুশিয়ারী দিয়ে জানিয়ে দেয় এই এয়ার বেসে কোন বিদেশী বিমানের অবতরণ সম্ভব নয়। তাই আমেরিকা বা অন্য কোন দেশের বিমান বাগরাম এয়ারবেসে নামবে না, এটা শুধু ভারতের একার সিদ্ধান্ত নয়, আফগানিস্তানও এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। অর্থাৎ বাগরাম এয়ারবেস নিয়ে আমেরিকার প্ল্যান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তাই নয়, ভারতের কূটনৈতিক জয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর বাগরাম এয়ারবেসে ভারতের উপস্থিতি শুধু আমেরিকাকেই নয়, চীন এবং পাকিস্তানকেও বড় ঝটকা দিয়েছে। যে চীন ভাবছিল তাদের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে গিয়ে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে, সেই স্বপ্ন বাগরাম এয়ারবেসে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। চিন ভেবেছিল তারা ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড এই প্রকল্পকে বাগরাম এর সাথে জুড়ে দিয়ে পুরো এশিয়াতে রাজ করবে।কিন্তু আফগানিস্তান চিনের এই প্রকল্পে নিজেদের যুক্ত করতে রাজি হয়নি, ফলে ভারত চিনের সেই স্বপ্নই শুধু ভেঙে দেয়নি, বাগরাম এয়ারবেস থেকে চিনের অনেকটা এলাকা ভারত নজরদারিও করতে বা প্রয়োজনে আঘাত হানতেও পারবে। একই অবস্থা পাকিস্তানেরও, এখন থেকে ভারত চাইলে বাগরাম এয়ারবেস থেকে পাকিস্তানের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে নজরদারি চালাতে পারবে। এবং অতি সহজেই আক্রমনও করতে পারবে। ফলে পাকিস্তানের কোন রণনীতি বা নিজেকে বাঁচানোর কোন উপায় থাকল না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post