দক্ষিণ চিন সাগরে মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে অবিশ্বাস্য, অসম্ভব ঘটনা ঘটে গেল, অথচ কেউ দেখতেও পেল না! দক্ষিণ চিন সাগরে টহল দেওয়ার সময় মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর চপার ভেঙে পড়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, চিন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন নৌমহড়া চলাকালীন ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁরা উদ্ধারকাজ-সহ অন্যান্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌমহড়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেছে ওখানে একটা রুটিন অপারেশন চলছিল। কিন্তু কিভাবে ওই যুদ্ধবিমান ও চপার দুটি ভেঙে পড়ল সেই রহস্য থেকেই গিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞমহলের একাংশ দাবি করছে, চিন হয়তো অদৃশ্য কোনও অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা তাঁরা এখনও প্রকাশ্যে আনেনি। আবার কেউ কেউ মার্কিন যুদ্ধাস্ত্রের খারাপ দিকের কথাও তুলে ধরছেন। তবে একটা বিষয়, স্পষ্ট, এই ঘটনা আদতে চিন-যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া যুদ্ধের অংশ।
দক্ষিণ চিন সাগরে মোতায়েন রয়েছেন মার্কিন রণতরী ‘নিমিৎজ়’। যা মূলত বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ। এর সঙ্গে কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার এবং কর্ভেট শ্রেণির যুদ্ধজাহাজও টহল দিচ্ছে দক্ষিণ চিন সাগরে। ওই রণতরী থেকে ওড়া একটি এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট ফাইটার জেট আচমকাই কোনও কারণ ছাড়া আকাশ থেকে টুপ করে সাগরের জলে গিয়ে পড়ে। এর আধ ঘণ্টা্র মধ্যে একটি মার্কিন এমএইচ-সিক্সটিআর সি হক হেলিকপ্টার একইভাবে ভেঙে পড়ে বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির সামুদ্রিক অঞ্চলগুলির মধ্যে একটি দক্ষিণ চিন সাগরের জলে। সূত্র বলছে, এই যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার দুটি উড়ানের আগে যাবতীয় সুরক্ষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। তবুও আচমকা কেন সেগুলি ভেঙে পড়ল, সেটাই রহস্য।
এই ঘটনা কাকতালীয় নাকি, এর পিছনে গভীর কোনও রহস্য আছে সেটা নিয়ে যখন চর্চা চলছে তখনই ইরানের এক সংবাদমাধ্যম এক বিস্ফোরক দাবি করল। তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে এটি কোনও দুর্ঘটনাই ছিল না, এটা ছিল চিনের কারসাজি। ইরানের ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, চিন এক শক্তিশালী ‘বৈদ্যুতিক শক’ অস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারটিকে মাঝ আকাশেই নিষ্ক্রিয় করেছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানের দাবি যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে এটিই হবে প্রথমবারের মতো চিনের বিতর্কিত জলসীমায় আমেরিকান সামরিক যানের উপর সরাসরি কোনও হামলা। তাও আবার অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক্স যুদ্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা ছিল ড্রাগনের হুঙ্কার। যার সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ধারণাই ছিল না। বিশ্বের তাবড় সামরিক বিমান বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত সন্দেহজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। যদিও অলৌকিক ভাবে জোড়া এয়ারক্রাফ্টের ৫ জন ক্রু সদস্যই জীবিত উদ্ধার হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এশিয়া সফরে। জাপানে এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ‘এটি এক অসাধারণ ঘটনা’। তবে তিনি এর পিছনে খারাপ জ্বালানী ব্যবহারের ইঙ্গিতও করেন। দক্ষিণ চিন সাগরের ঘটনা মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র এবং সামরিক বিমানের সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। যদিও এটা প্রথম কোনও ঘটনা হয়। এর আগে মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ভারতে জরুরি অবতরণ করেছিল। কেরলের তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে ওই যুদ্ধবিমান টানা এক মাস আটকে ছিল কোনও এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে। তখনই মার্কিন যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রবল সমালোচনা হয়েছিল। সেবার বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছিলেন, ভারত সেই মার্কিন স্টিলথ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানের সংকেত ডিকোড করে লক করে দিয়েছিল। তাতেই ওই ফাইটার জেটকে জরুরি অবতরণ করতে হয়। আর এবার চিন দেখিয়ে দিল মার্কিন প্রযুক্তির দৈনতা। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় তাঁদের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, সেটা নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post