একা রামে রক্ষা নেই, সুগ্রীব দোসর। একদিকে সেনার চাপ, অপরদিকে আওয়ামী লীগের চাপ। ইউনূসের অবস্থা এখন স্যান্ডউইচের শশার মতো। হাসিনার দল যাতে ভোটে লড়তে না পারে, তার জন্য চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি অন্তর্বর্তী সরকার। আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যকলাপের ওপর অন্তর্বর্তী সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তাতেও হাসিনা-বাহিনীকে দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। তারা এবার পথে নেমেছে। দলের নেতা-কর্মীদের মুখে এখন শোনা যাচ্ছে এই স্লোগান – পথে এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা। লক্ষ্য একটাই বাংলাদেশে যে কোনও মূল্যে জনগণের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
আওয়ামী লীগ এবার সংসদ ভবনের সামনে মিছিল করেছে। ছোট খাটো মিছিল নয়, বেশ বড় ধরনের মিছিল। সংসদ ভবন মানেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি। পুলিশ বাহিনী সেখানে ছিল না তা নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগকে রোখার সাহস তারা দেখাতে পারেনি। একেবারে কিছু না করলেই ব্যাপারটা লজ্জাজনক জায়গায় পৌঁছে যাবে। তাই, একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন বলেন, ‘দুপুর পৌনে ২টো দিকে আওয়ামী লীগের একদল নেতাকর্মী বিজয় সরণী মেট্রোরেল স্টেশনের পাশ থেকে মিছিল শুরু করে খামারবাড়ির দিকে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা সিরাজুল ইসলামকে ব্যানারসহ আটক করে। ’
সংসদ ভবনের সামনে আওয়ামী লীগের মিছিলে অন্তর্বর্তী সরকার রীতিমতো অস্বস্তিতে। তাই, কার্যনির্বাহী প্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইউনূস তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের জরুরী বৈঠক ডাকেন। ছিলেন নয়জন। বৈঠকে পরিষদ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করবে সরকার। এর নেপথ্যে যাঁরা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফ্যাসিবাদী শক্তি যখন দেখছে যে দেশ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, জুলাইয়ের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দ্রুত হচ্ছে, তখন তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর ফলে, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার জন্য সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে মাঠে নামছে। একটা এখন জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না।’
স্থানীয় প্রশাসন যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারে, তার জন্য সরকারের তরফে তাদের ‘অবাধ স্বাধীনতা’ দেওয়া হয়েছে। আসলে সংসদভবন চত্বরে আওয়ামী লীগের মিছিলে টনক নড়েছে সরকারের। সরকার একবারের জন্য অনুমান করতে পারেনি যে আওয়ামী লীগ এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। একদিকে আওয়ামী লীগের একের পর এক শো ডাউন, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতা, সব মিলিয়ে বাংলাদেশ হাওয়া বেশ তপ্ত।
ইউনূসের মাথা ব্যথার আরও কারণ রয়েছে। দেশের গোয়েন্দা দফতরের কাছে কী এই ধরনের খবর ছিল না? যদিও না থাকে, তাহলে সেটা তো গোয়েন্দা বাহিনীর ব্যর্থতা। আগামীদিনে তাহলে এর থেকেও বড় কিছু ঘটতে পারে। সামনেই দুর্গাপুজো। অন্তর্বর্তী সরকার আশঙ্কা করছে, পুজোর সময় যে কোনও ধরনের নাশকতা ঘটতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসন্ন দুর্গাপুজোয় অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে নানা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হতে পারে। গতবারের অভি়জ্ঞতার নিরিখে আসন্ন দুর্গাপুজোয় নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে। ’
নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে। দুনিয়ার কোনও শক্তি ঠেকাতে পারবে না।’












Discussion about this post