গত সোমবার আওয়ামী লীগ নেতা তথা বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন তিন ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূত। নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের মতো দেশের রাষ্ট্রদূতরা ঢাকায় বসেই বৈঠক করছেন আওয়ামী নেতার সঙ্গে। শুধু এটাই খবর নয়, ভারতে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গেও বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা বৈঠক করছেন, আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছেন। ইউরোপীয় দেশগুলি এবার আওয়ামী লীগের হয়ে ব্যটন ধরতে শুরু করলো কেন, তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উঠে আসছে একটা অঙ্ক। সেটা হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশ নিয়ে মনোভাবের পরিবর্তন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাস কয়েক আগে ওই আওয়ামী নেতা সাবের চৌধুরীর সঙ্গেই অতি গোপনে বৈঠক করেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন। জানা যায় তারপরই মার্কিন কূটনৈতিক লন্ডনে গিয়ে বৈঠক করেন বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এই পদক্ষেপের পিছনে ছিল জামায়তে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির চাপ। এমনকি বিএনপিও মৃদু চাপ সৃষ্টি করছিল। কারণ যত দিন যাচ্ছে, ততই বিএনপির ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন চুরমার হচ্ছে। একদিকে আওয়ামী লীগের উত্থান অন্যদিকে জামাতের প্রভাব বৃদ্ধি। সবদিক থেকেই বিএনপি হতাশ হচ্ছে নির্বাচন বিলম্ব হওয়ার কারণে। এই পরিস্থিতিতে যদি আওয়ামী লীগের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয় হয় এবং তাঁদের নির্বাচনী নিবন্ধন ফেরত আসে, তাহলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে বিএনপি।
কেউ কেউ দাবি করছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ড ও নানান অপরাধে জড়িতদের বাদ দিয়ে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’কে ভোটে আনার চেষ্টা চলছে কয়েকটি মহলে। আওয়ামী লীগ সূত্রেই জানা যাচ্ছে, সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত নন, তবে আওয়ামী লীগের খাঁটি সমর্থক, আবার ইমেজও ভাল এমন ব্যক্তিদের তালিকা করে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দলটির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বেই এ প্রক্রিয়া চলছে। একটি অংশ বলছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, যাদের একটা বড় অংশ ভারতে অবস্থান করছেন, তাঁরাই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন শেখ হাসিনার নির্দেশমতো। অন্যদিকে ইউপোরীয় দেশগুলিতে অবস্থানকারী আওয়ামী লীগের শাখা সংগঠনগুলিও নানাভাবে সে দেশের সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছে। প্রভাবশালী লবি ব্যবহার করে সেই দেশুগুলিকে দিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস প্রশাসনের উপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ভারতে অবস্থিত একাধিক দেশের রাষ্ট্রদূতরাও তৎপর হয়েছে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে ফেরাতে। এতে ভারতেরও একটা ভূমিকা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞায় মুহাম্মদ ইউনূসের ওপর যে একটা আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে সেটা বোঝা গিয়েছিল যথন নিউ ইয়র্কে বসে প্রধান উপদেষ্টা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে বৈধ। কেবলমাত্র তাঁদের উপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা যায় কিনা, সেটাও ভাবনাচিন্তা করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। লক্ষ্য করে দেখলে বোঝা যাবে, মুহাম্মদ ইউনূস এই বার্তা দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বসে। আর সেখানে এগারো দিন থাকার পরও একবারও কোনও মার্কিন কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি বৈঠক করতে পারেননি। ফলে বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। এরপরই আসরে নেমে পড়ে ইউরপীয় দেশগুলি। এখন আওয়ামী লীগের বাংলাদেশে ফেরা কেবলমাত্র সময়ের অপেক্ষা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post