বাংলাদেশে একদিকে আওয়ামী লীগের উত্থান ঠেকাতে মরিয়া ইউনূস প্রশাসন। অন্যদিকে হাসিনার দলকে ফেরাতে তৎপর হল কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। পাশাপাশি ভারতের তৎপরতাও কম নয়। সবমিলিয়ে আওয়ামী লীগকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন। এখন দেখার, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আদৌ অংশগ্রহণ করতে পারে কিনা।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আগেই নিষিদ্ধ করেছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। এবার শেখ হাসিনার দলকে বাংলাদেশে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পথে এগোচ্ছেন ইউনূস বাহিনী। যাতে তাঁরা আর নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার বিচার চলছে, সেখানেই এবার আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউনুস সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্য, শুধু শেখ হাসিনা নন, আওয়ামী লিগ দলীয়ভাবেই কোটাবিরোধী আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িয়ে ছিল। এমন দলের রাজনীতি করার অধিকার নেই। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহল এই উদ্যোগকে নিয়ে রাজনীতিই দেখছেন। কারণ, ভিতরে ভিতরে অন্য একটা খেলা শুরু হয়েছে।
শেখ হাসিনা এবং তাঁর অনুগামী কয়েকজন শীর্ঘ আওয়ামী নেতাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে পুনর্বাসনের একটা গোপন সমঝোতা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এবং তা শুরু হয়েছে বিদেশী উদ্যোগে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে তিন দেশের রাষ্ট্রদূতদের এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। জানা যাচ্ছে, ৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় সাবের হোসেন চৌধুরীর বাসভবনে এসেছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস, এবং ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মলার। জানা যাচ্ছে, বৈঠকে কূটনীতিকরা আওয়ামী লীগের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, দলটির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ এবং রাজনৈতিক পুনর্বহাল প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী বড় ভূমিকা গ্রহণ করছেন এটা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কেন সাবেক আওয়ামী মন্ত্রীকেই বেছে নিলেন বিদেশী রাষ্ট্রদূতেরা?
২০২৪ সালে বাংলাদেশে পালাবদলের পর অন্যান্য আওয়ামী নেতার সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীও গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে গ্রেফতারির পরদিনই তিনি জামিন পেয়ে যান। জানা যাচ্ছে, সাবের হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সমস্ত মামলায় সাবের হোসেন চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত। এরপর তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। কিন্তু পরদিনই তাঁকে ফের আদালতে হাজির করে জানায় তিনি অসুস্থ। সাবের হোসেন চৌধুরীর আইনজীবীরাও তাঁর হয়ে জামিনের আবেদন করেন, সরকার পক্ষ তার বিরোধিতা করেনি। ফলে সব কটি মামলায় জামিন পেয়ে যান একদা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সচিব তথা মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। এটা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি বাংলাদেশে। এখন সেই আওয়ামী লীগ নেতাই তৎপর হয়েছেন আওয়ামী লীগকে আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরানোর জন্য। জানা যাচ্ছে, গত মে মাসে গভীর রাতে তাঁর সঙ্গে গোপন বৈঠক করে গিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জেকবসন। সেটাও ছিল আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্যাকেজ সংক্রান্ত আলোচনা। এবার নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সুইডেনের মতো দেশগুলির রাষ্ট্রদূতরা একত্রে সাবের হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করলেন। তাও আবার গোপনে। যদিও পরে তিন রাষ্ট্রদূতই জানান, বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নিলে বিদেশি সম্প্রদায়ের আপত্তি নেই। বরং এতে “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নিশ্চিত হবে। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। তাহলে কি হাসিনাকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বকে সামনে এনে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের উদ্যোগী হল পশ্চিমা দেশগুলি? এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post